
বগুড়ায় ডিবি পুলিশের অভিযানে অপহরন পূর্বক মুক্তিপণ আদায় চক্রের ২ সদস্য আটক
বিশেষ প্রতিনিধি
বগুড়ায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিদেশে (লিবিয়া) অবস্থানরত দুই প্রবাসীকে অপহরন পূর্বক বাংলাদেশে ভিকটিমের পরিবারের নিকট হতে অবশিষ্ট মুক্তিপণ আদায় কালে অপহরন চক্রের ২ সদস্য আটকসহ ভিকটিমদ্বয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ স্নিগ্ধ আখতার, পিপিএম (পুলিশ সুপার পদোন্নতিপ্রাপ্ত) প্রেস ব্রিফিং এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন, মোঃ পান্নু মিয়া (৩৫), পিতা-মোঃ আয়েন উদ্দিন প্রাং, সাং-শিহিপুর এবং মোঃ শিপলু সরকার (৪০), পিতা-মৃত আঃ সাত্তার, সাং-নওদাবগা, উভয় থানা-সোনাতলা, জেলা-বগুড়া। এ সময় তাদের হেফাজতে থাকা এক লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, বাদী মোঃ রাব্বি খন্দকার দুপচাঁচিয়া থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন যে, মোঃ পান্নু খন্দকার ও মোঃ সাঈদ খন্দকার তার আপন ছোট ভাই। তাহাদেরকে বিদেশ পাঠানোর জন্য চেষ্টা করাকালে তার দুসম্পর্কের আত্মীয় ১নং আসামী মোঃ উজ্জল তাকে জানায় ২নং আসামী মোঃ সাব্বির হোসেন বর্তমানে লিবিয়া অবস্থান করিতেছে তাহার মাধ্যমে তার দুই ভাইকে বিদেশে (লিবিয়া) নিয়ে গিয়ে ভাল বেতনে চাকুরী দেওয়ার কথ্য বলে তাকে বিভিন্ন সময় প্রলোভন দিত।
পরবর্তীতে বাদী ১নং আসামী মোঃ উজ্জলের কথা মতো তার দুই নাইকে বিদেশ পাঠানো মনস্থির করিলে সে জানায় যে, দুই ভাইয়ের পার্সপোট করিয়া দিলে ১১,০০,০০০০/-টাকার মধ্যে লিবিয়া নিয়া ২নং আসামী মোঃ সাব্বির হোসেনের মাধ্যমে ভালো বেতনে সেখানে হাসপাতালে চাকুরী দিতে পারিবে।
সেই মোতাবেক ইং-২৫/১১/২০২৩ তারিখ সকাল -১১.৩০ ঘটিকায় এবং ইং-০৬/১২/২০২৩ তারিখ সকাল ১০.৩০ ঘটিকার সময় দুপচাঁচিয়া থানাধীন পৌরসভাস্থ থানা বাসষ্ট্যান্ডে ১নং এদামী মোঃ উজ্জলের মোস্তাহ্য জোর নামক অফিস কথের মধ্যে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে দুই কিস্তিতে নগদ সর্বমোট=১১,০০,০০০/-(দশ লক্ষ্য টাকা ১নং আসামী মোঃ উজ্জলকে প্রদান করে।
পরবর্তীতে ১২/১২/২০২৩ তারিখে তার ছোট ভাই মোঃ পাপ্পু খন্দকারকে ও ইং- ১৭/০১/২০২৪ তারিখে মোঃ সাঈদ খন্দকারকে ১নং আসামী মোঃ উজ্জল ২নং আসামী মোঃ সাব্বির হোসেন এর নিকটে লিবিয়া পাঠাইয়া দেয়। চুক্তি মোতাবেক লিবিয়ার হাসপাতালে চাকুরী দেওয়ার কথা থাকিলেও চাকুরী না দিয়া বাদীর ছোট দুই ভাইকে বসাইয়া রাখে।
এক পর্যায়ে ১০২ আসামী মোঃ উজ্জলের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় ২নং আসামী মোঃ সাব্বির হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন আসামী মিলে তার ছোট তাই মোয় পাঙ্গু ঘন্দকারকে ইং-২৫/০৩/২০২৪ তারিখে লিবিয়ার হাসপাতালে চাকুরী দেওয়ার কথা বলিয়া লিবিয়ার ত্রিপলী মদিনা শহরে এবং নোয় সাঈদ খন্দকারকে কোম্পানিতে চাকুরী দেওয়ার কথা বলিয়া লিবিয়া আজদাবিয়া জামা সোনা কিয়া শহরে নিয়া আটক করিয়া রাখে।
পরবর্তীতে বাদীর দুই ভাইয়ের মুক্তিপন বাবদ ২নং আসামী মোঃ সাব্বির হোসেন ১নং আসামীর মাধ্যমে তার ইমুতে ফোন করে তার নিকটে ১২০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। উক্ত টাকা না দিলে তার ছোট দুই ভাইকে বিক্রয় করিয়া দিবে বলিয়া হুমকি প্রদান করিতে ওকে। এ সংক্রান্তে বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া থানায় মামলা নং-০৬, তারিখ-০৮/০৬/২০২৪, ধারা-৮(১) মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন
১৬ এজাহারের ভিত্তিতে বগুড়া জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বিপিএম, পিপিএম (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ স্নিগ্ধ আখতার, পিপিএম (পুলিশ সুপার পদোন্নতিপ্রাপ্ত) এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ডিবি, বগুড়ার ইনচার্জ এর নেতৃত্বে ডিবি বগুড়ার একটি চৌকস টিম তথ্য প্রযুক্তি ও নিখুত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইতিপূর্বে এজাহারনামীয় আসামীদ্বয়কে গ্রেফতার করে।
আসামীদের দেওয়া তথ্য মোতাবেক লিবিয়া হতে কৌশলে অত্র মামলার ভিকটিম সাঈদকে উদ্ধারপূর্বক বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। কিন্তু তখন পর্যন্ত অত্র মামলার অপর ভিকটিম পাপ্পু খন্দকারকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় নাই। একপর্যায়ে অপহরনকারী ভিকটিম পামু এবারের মুক্তিপণের জন্য বাদী ও তার পরিবারকে ইমু অ্যাপস এর মাধ্যমে ফোন করে মুক্তিপণ বাবদ ৪,০০,০০০/-(চার লক্ষ) টাকা দাবি করে।
অপহরনকারী কথায় ভীত হইয়া বাদী তার দেওয়া ডাচ বাংলা ব্যাংক একাউন্টে নগদ ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা প্রেরন করে। উক্ত টাকা পাওয়ার পরেও অপহরনকারী বাকি টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে অত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার পরামর্শে বাদী উক্ত টাকা দিতে রাজি হইলে অপহরনকারী জানায় যে, ০১/০৭/২০২৪ ইং তারিখ সন্ধ্যা ১৯.০০ ঘটিকায় মোঃ পান্নু নামক এক ব্যক্তি বগুড়া সদর থানাধীন চেলোপাড়া সিএনজি ট্যান্ডে টাকা নেওয়ার জন্য অবস্থান করিবে।
অপহরনকারীর কথা মোতাবেক বাদী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পূবেই ডিবি বগুড়ার একটি চৌকস টিম সেখানে ছদ্মবেশে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে ইং ০১/০৭/২০২৪ তারিখ সন্ধ্যা ১৯.৩০ ঘটিকায় অপহরনকারীর কথা মোতাবেক মোঃ পান্নু ও তার সহযোগী মোঃ শিপলু টাকা নেওয়ার জন্য উল্লেখিত স্থানে আসিলে তাদেরকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত পান্নু নিজেকে লিবিয়ায় অপহরনকারী পায়েলের আপন ভাই বলে জানায়। পরবর্তীতে তাদেরকে আটক রেখে তাদের মাধ্যমে অপহরনকারীকে ভিডিও কলের মাধ্যমে জানানো হয় ভিকটিম পান্নু খন্দকারকে দ্রুত বাদীর দেওয়া লিবিয়ার নিরাপদ স্থানে না পৌঁছালে তার ভাই ও ভাইয়ের সহযোগীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
তখন অপহরনকারী বাধ্য হয়ে নাদীর ছোট ভাই পান্নু খন্দকারকে লিবিয়ায় নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়। পরবর্তীতে ভিকটিম পান্তু তার ভাই অত্র মামলার বাদী ও অত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়ে ভিডিও কলে ফোন করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করে।
উল্লেখ্য যে, ভিকটিম পান্নু খন্দকারকে উদ্ধারের লক্ষ্যে মুক্তিপণ বাবদ অপহরণকারীর দেওয়া ডাচ বাংলা ব্যাংক একাউন্টে প্রদানকৃত এক লক্ষ টাকা আটককৃত পান্নুর হেফাজত হতে উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।