
কোরআন খতম, দোয়া ও বৃক্ষরোপণে রাজবাড়ীতে কালবেলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
স্টাফ রিপোর্টার:
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজবাড়ীতে
ব্যতিক্রম আয়োজনে দেশের জনপ্রিয় দৈনিক ‘কালবেলা’-এর চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে কেক কাটা, আলোচনা সভা, মিষ্টি বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ এবং দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে পত্রিকার সাফল্য কামনা করা হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজবাড়ী জেলা শহরের বিনোদপুর নতুনপাড়া এলাকায় জয়েনউদ্দিন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে আলোচনা সভা, শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দোয়া ও মোনাজাত করেন: হাফেজ মাওলানা মাসুম বিল্লাল। পরে এতিম শিশুদের নিয়ে কেক কেটে কালবেলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে এতিম শিশুদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ ও উপস্থিত বিশেষ ব্যক্তিদের মিষ্টি মুখ করানো হয়। এবং জয়েনউদ্দিন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রাঙণে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা দেয়।
কালবেলা রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি, মোমিন শেখের আয়োজনে এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম হিরণ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন: জয়েনউদ্দিন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা, হাফেজ মো: জহিরুল ইসলাম,
দৈনিক নয়াকন্ঠের সম্পাদক, মো: আনিসুর রহমান, শিক্ষক আজাহার ইসলাম, দৈনিক জনতার বিজয় এর সহ-সম্পাদক, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের
ও সাংবাদিক শারীদ মোল্লা, সাংবাদিক মো: হাসান খান, সাংবাদিক শাহীন আলম সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় শিক্ষক আজাহার ইসলাম বলেন, এতিম শিশুদের সঙ্গে নিয়ে দৈনিক কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। কালবেলা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনেও পত্রিকাটি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরবে, এটাই প্রত্যাশা। কালবেলার উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।
দৈনিক নয়াকণ্ঠের সম্পাদক, মো. আনিসুর রহমান বলেন, দৈনিক কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। এতিম শিশু ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন সত্যিই প্রশংসনীয়। আশা করি, কালবেলা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে আগামী দিনেও দেশ ও মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জয়েনউদ্দিন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা, হাফেজ মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, এতিম শিশুদের নিয়ে দৈনিক কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ আয়োজনে মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীরা আনন্দিত। কালবেলা যেন সবসময় সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারে, সেই দোয়া করি।
কালবেলার রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি, মোমিন শেখ বলেন, দৈনিক কালবেলা চার বছরের পথচলা পূর্ণ করেছে। এ উপলক্ষে রাজবাড়ীবাসীসহ সবার প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। কালবেলা সবসময় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং তৃণমূলের মানুষের সুখ-দুঃখ ও পিছিয়ে থাকা খবর সবার আগে তুলে ধরার চেষ্টা করে। আগামী দিনেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে রাজবাড়ীবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি। ব্যতিক্রমী আয়োজনে কালবেলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের পাশাপাশি পত্রিকাটির প্রকাশক ও সম্পাদকের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম হিরণ বলেন, দৈনিক কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উপস্থিত হতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। কালবেলার রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি মোমিন শেখ সহ পত্রিকাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। এতিম শিশু ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে কালবেলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের এ আয়োজন সত্যিই ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয়।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এ পেশার মাধ্যমে মানুষের সেবা করার এবং তৃণমূলের মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না ও না বলা কথা তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। রাজবাড়ীতে কালবেলার অনলাইন সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দ্রুততা ও সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যায়। এ জন্য জেলা প্রতিনিধি মোমিন শেখকেও ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, আগামী দিনেও কালবেলা সাধারণ মানুষের পাশে থেকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থে কাজ করে যাবে বলে আশা করি। পত্রিকাটির সম্পাদক, প্রকাশক সহ সংশ্লিষ্ট সবার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। একই সঙ্গে কালবেলার উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।
আলোচনা সভা শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় দোয়া ও মোনাজাতে কালবেলার প্রকাশক, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এবং সম্পাদক, সন্তোষ শর্মার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
পরে এতিম শিশুদের নিয়ে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও এতিম শিশু ও আগত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে বৃক্ষরোপণ করা হয় এবং মিষ্টি মুখ করানো হয়। এ ছাড়া এতিমখানার শিশুরা কালবেলার সফলতার জন্য কোরআন খতম করেন।
আলোচনা সভা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা একসঙ্গে কেক কাটেন এবং পত্রিকার সার্বিক সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও সুধীজনদের উপস্থিতিতে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।