
মোঃ লিটন হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি :-
রায়পুর উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির ঘটনায় চোর সন্দেহে আটক চারজনকে ঘিরে ‘মব জাস্টিস’ ঠেকাতে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে উত্তেজিত লোকজন সড়ক অবরোধ করলে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দর আলী ব্যাপারী বাড়ি এলাকায় এক অটোরিকশা চালক ইফতারের সময় তার গাড়িটি সড়কের পাশে রেখে যান। কিছুক্ষণের মধ্যে অটোরিকশাটি চুরি হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় চারজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয় এবং গাড়িটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে অভিযোগ ওঠে, অটোরিকশার ব্যাটারি অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
এ সময় আটক ব্যক্তিদের একটি বাড়িতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মারধর করা হয় বলে জানা যায়। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কলের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক চারজনকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করে। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে কিছু লোক ‘নিজেদের বিচার নিজেরাই করবে’—এমন অবস্থান নিয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে উপপরিদর্শক (এসআই) মোতালেব, কনস্টেবল শওকত, মঞ্জুর ও জাহিদ আহত হন। আহতদের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রায়পুর থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বলেন, চোর সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের ওপর গণপিটুনি চলছিল। আমরা খবর পেয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করি। থানায় নেওয়ার সময় পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা হয়। এতে আমাদের চার সদস্য আহত হয়েছেন। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) জামিনুল হক বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মোবাইল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। অনেক কষ্টে আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়। ফেরার পথে পেছন থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘর্ষের জের ধরে রাত ৯টা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়কের চৈতাইল্যা দিঘির পাড় এলাকায় অবরোধ করা হয়। সড়কে ইট, বাঁশ ও গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন দেওয়া হলে দুই কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে অবরোধ তুলে দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক চারজন বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। অটোরিকশা চুরির ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। একই সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।