
মোস্তাফিজুর রহমান রাজশাহী ব্যুরো প্রধানঃ
রাজশাহীর দূর্গাপুর উপজেলার ২নং কিসমত গনকৈড় ইউনিয়নের ধামইন গ্রামের একটি বিলে ফসলি জমিতে চলছে পুকুর খনন কাজ। ওই পুকুর খননের মাটি বিভিন্ন গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় মাটি পড়ে রাস্তা নষ্ঠ হচ্ছে।
জানা যায়, সেখানে দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন বেশ কয়েকবার গিয়েছিলেন কিন্তু কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই ফিরে এসেছেন প্রতিবার। তাই সাধারণ মানুষের মাঝে নানান রকম প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ওই পুকুর খননকে কেন্দ্র ইতোমধ্যে ঘটেছে মারামারির মত ঘটনা। অভিযোগ আছে পুকুর খননকারী প্রভাবশালী ও অর্থবিত্ত থাকায় সে মানুষ ভাড়া করে স্থানীয় জমির মালিক ও কৃষকদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে খনন কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। ইতোমধ্যেই পুকুর খননকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর মোহনপুরে এক জমির মালিককে ভেকু চাপা দিয়ে হত্যা করার মত ঘটনাও ঘটেছে। ওই ঘটনার পর দুর্গাপুর উপজেলায় পুকুর খননকে কেন্দ্র করে যে কোন মুহূর্তে আবারো ঘটতে পারে একই রকম ঘটনা বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন নাগরিক।
সূত্র বলছে তাহেরপুর এলাকার এক মাছ ব্যবসায়ী ও দুই ব্যক্তি আড়ালে থেকে পুকুরটি খনন করছেন। তবে প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না কেউই। আরো অভিযোগ আছে তাহেরপুর এলাকার একটি গ্রুপের মাধ্যমে তিনি পুকুরটি খনন করে নিচ্ছেন মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে। তাই ওই পুকুর খননের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয় একজন কৃষক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, পুকুর খননকারী মোস্তফা আমার সাথে কথা না বলে মাটি ফেলে আমার সরিষা ক্ষেত ভরাট করে দিয়েছে। অথচ আমি তিন বছরের জন্য জমিগুলো লিজ নিয়েছি। আমার সাথে কোন কথাই বলেনি তারা। এছাড়াও কয়েকজন কৃষক বলছেন সেখানে আমরা সরিষার আবাদ করেছি সেগুলো মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাশতুরা আমিনা বলেন, আমরা সেখানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেছি এবং এই ঘটনায় একটি মামলাও করা হয়েছে বিষয়টি এখন থানা পুলিশ দেখবে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলার পর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, সে এখন জামিনে আছে। তাছাড়া ইউএনও মহোদয় যদি আবারও সেখানে অভিযানে যায় তাহলে আমরা আবার সহযোগিতা করব।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), মোঃ মহিনুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ওইখানে আমরা একটি নিয়মিত মামলা করেছিলাম। আসামি জামিনে আছে ওইটা পুলিশ দেখবে। আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। ইউএনও’কে বলে দিচ্ছি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। খুব দ্রুত আমরা আমাদের ব্যবস্থা নেব।