
ইমদাদুল হক রানাঃ
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত গণমাধ্যম আজ আবারও এক নির্মম আঘাতের শিকার। গাজীপুরে বর্বরোচিত হামলায় নিহত হয়েছেন সাংবাদিক মোঃ তুহিন। তিনি ছিলেন দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকার গাজীপুর প্রতিনিধি। শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে তাঁকে প্রাণ দিতে হলো—এটি যে কোনো বিবেকবান মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের সন্তান তুহিন পরিবার নিয়ে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করতেন। কর্মজীবনে সাহসী ও সত্যনিষ্ঠ এই সাংবাদিক ছিলেন শহরের নানা অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সরব কণ্ঠস্বর। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি ফেসবুক লাইভে চাঁদাবাজ ও ফুটপাত দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এমনকি পরে আরেকটি ভিডিও বার্তায় রাস্তার বিশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগ নিয়েও মন্তব্য করেন। সেই প্রতিবাদের পরিণতি হলো – নির্মম মৃত্যু।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে মসজিদ মার্কেটের সামনে একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন তুহিন। এমন সময় একদল সন্ত্রাসী হঠাৎ তাকে ঘিরে ধরে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। নির্মমভাবে কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তুহিন।
এ ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়—এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও জনস্বার্থে কাজ করার মানসিকতাকে ভয় দেখানোর স্পষ্ট প্রয়াস। একজন সাংবাদিককে দিনের আলোতে, লোকজনের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়—এ দৃশ্য কোনো সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না।
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন খান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—এই নির্মম হত্যার বিচার কি দ্রুত হবে? প্রকৃত অপরাধীরা কি ধরা পড়বে? নাকি আরেকটি ঘটনা কেবল সময়ের গহ্বরে হারিয়ে যাবে?
সাংবাদিক তুহিনের রক্তের ঋণ শুধু তার পরিবার নয়—সমগ্র সাংবাদিক সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি করেছে। আমরা চাই, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এ হত্যার বিচার হোক। সরকার ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাই, সাংবাদিক হত্যার বিচার যেন বিলম্বিত না হয়।
তুহিনের মৃত্যুতে আমরা একজন সাহসী কলম সৈনিককে হারালাম। কিন্তু তার কলম থেমে গেলেও তার প্রতিবাদের ভাষা থেমে যাবে না। এই প্রতিবাদ চলবে—সত্য ও ন্যায়ের পক্ষ নিয়ে।✊ বিচার চাই — সাংবাদিক তুহিন হত্যার।
✊ নিরাপত্তা চাই — সাংবাদিকদের জন্য।
✊ স্বাধীনতা চাই — গণমাধ্যমের।