
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বিনয় দেবনাথ ভালুকার সন্তান
তিনি ময়মনসিংহেরও কৃতি-সন্তান।
বিনয় দেবনাথ মূলত: কবি ও সাহিত্যিক।
তিনি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় বিরুনীয়া ইউনিয়নে (১৭,অক্টোবর
১৯৫৫ ইং)পহেলা কার্তিক, ১৩৬২বঙ্গাব্দে- গোয়ারি গ্রামে সম্ভ্রান্ত এক হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।
পিতার নাম- স্বর্গীয় বিধু ভূষণ দেবনাথ, মাতা- স্বর্গীয় সুষমা দেবনাথ। লেখাপড়ার শুরু গোয়ারি প্রাইমারি স্কুল থেকে।
পরে গফরগাঁও উপজেলার কান্দিপাড়া আসকর আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক,
গফরগাঁও সরকারী কলেজ থেকে আই,এ তারপর ময়মনসিংহ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন।
শিক্ষা জীবন শেষ করার পর- বাংলাদেশ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন।
পরবর্তীতে চাকরিতে দক্ষতা অর্জনে সফল কর্মকর্তা হিসেবে সম্মানের সাথে সরকারি চাকরি নিয়মবিধি অনুযায়ী বয়স সীমা পাড় হওয়ার পর অবসর গ্রহণ করেন করেন।
চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত হওয়ার পর পরই তিনি সাহিত্যের সাথে সম্পূর্ণভাবে জড়িয়ে পড়েন।
তিনি বর্তমানে
ময়মনসিংহ শহরে বসবাস করেন।
নব্বই দশকের আগে থেকেই এই লেখকের লেখালেখির শুরু।
কিন্তু – চাকরিতে যোগদানের পর যদিও ব্যস্ততায় ছিলেন, তারই ফাঁকে ফাঁকে লেখালেখির কাজও চালিয়ে যেতেন।
স্কুল জীবনে দেয়াল পত্রিকায় প্রথম কবিতা ছাপা হয়। তারপর থেকে চাকুরির ফাঁকে ফাঁকে লেখালেখির যাত্রা অব্যাহত রাখেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রপত্রিকার সাহিত্য পাতায় এই কবির লেখা প্রকাশিত হতো এবং এখনও হচ্ছে।
এছাড়াও কলকাতার বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকা ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সাহিত্য ম্যাগাজিনের নিয়মিত একজন লেখক।
কবি বিনয় দেবনাথ এ-র সাহিত্য আড্ডার গল্প কথার মানুষ আর উৎসাহের সঙ্গী অনেকই।
প্রয়াত অনেক বরেণ্য লেখকের সাথে তাঁর রয়েছে নিবিড় সাহিত্য প্রেমের সম্পর্ক।
কবি বিনয় দেবনাথ এ-র সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশিত হয়েছে অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস, ছোটগল্প।
তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে বেশ কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ পাঠক সমাজে তৃপ্তিদায়ক আলোরন বৃষ্টি হয়েছে তার লেখা- “সেই কবে তোমায় দেখেছিলাম”রোমান্টিক কাব্যগ্রন্থ সহ অগ্নিশিখা,প্রেম যন্ত্রণা,পথের শেষ,গুচ্ছ কবিতা ও অশ্রুজল ভিক্ষা এবং উপন্যাস- গলির মোড়ে মেয়ে,পদ্মাবতী এছাড়াও ছোট গল্প- হিজল গাছে ভুত, রাজসিংহাসন ইত্যাদি।
কবি বিনয় দেবনাথ এ-র যাপিত জীবনের নানা গল্প বলার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতিও তুলে ধরেন তাঁর লেখার মাধ্যমে।
কবি বিনয় দেবনাথ বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। তিনি একাধারে কবি,গল্পকার , নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক।
তিনি মানুষের মনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর কাব্যিক দক্ষতা এবং কবিতায় তাঁর গভীর ভাব প্রকাশে তিনি শ্রোতাদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত ।
সবচেয়ে প্রয়োজন মানবিক মানুষের। মানবিক মানুষই আধুনিক মানুষ।
তিনি পাঠক সমাজের মধ্যে আস্থা তৈরি করে অনুপ্রাণিত করেন এবং তাদের সার্বিক প্রয়োজনে সাহায্য করেন।
সময়ের কাঁটা ঘুরলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সফল স্বপ্নবাজ মানুষ বেঁচে থাকার প্রচেষ্টা চালান প্রতিক্ষণ। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নিজের স্বপ্ন ছড়িয়ে দেওয়ার মতো সফল একজন মানুষ কবি বিনয় দেবনাথ।
তিনি বিশ্বাস করেন পুরষ্কার নয়, লেখক বেঁচে থাকে তার সৃষ্টি কর্মে। লেখালেখি কোনো পার্টটাইম ওয়ার্ক নয়, ফুলটাইম আরাধনার বিষয়।
তিনি আরও বলেন, তারুণ্যকে আমরা যখন দেখি ক্ষুদ্র চিন্তা, সংকীর্ণতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি কিংবা রাজনৈতিক দলীয়করণ ও সন্ত্রাসে লিপ্ত হতে, তখন আমাদের অন্তরে ইনল্যান্ড তাইপান সাপের বিষক্রিয়া হতে থাকে, আমরা পরাজিত হই বিবেকের কাছে। মানবজীবনের সবচেয়ে সৃষ্টিশীল সময়ে তাদের সামনে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ক্রিয়াকাণ্ডের পথ খোলা না রেখে আমরা আমাদের জাতিসত্ত্বাকেই পঙ্গু করে দিচ্ছি একটু একটু করে। এতসব হতাশার মাঝেও আমরা আশার আলো দেখতে পাই যখন দেখি অস্ত্র ও সন্ত্রাসের পথে না গিয়ে তারুণ্যের একটি অংশ পুষ্পের সৌরভ ও কলমের শক্তির উপর নির্ভর করে তখন আগামীর জন্য- আমি, আমরা, আমাদের মত মানুষেরা নতুন ভাবে আলোকিত স্বপ্ন দেখর আশায়।