
মোঃ ইমদাদুল হক রানা রাজবাড়ী থেকেঃ
“সেবাই ধর্ম”এই মানবিক অঙ্গীকারকে সামনে রেখে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস-২০২৬। মঙ্গলবার (১৩ মে) দিবসটি উপলক্ষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও পেশাজীবীদের সম্মাননা আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সিনিয়র স্টাফ নার্স তানভীন সুইটির সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহান উম্মন।
এ বছরের আন্তর্জাতিক নার্স দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল, “আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ: জীবন রক্ষায় প্রয়োজন নার্সদের ক্ষমতায়ন।” প্রতিপাদ্যে নার্সদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং স্বাস্থ্যসেবায় তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একজন রোগীর চিকিৎসা ও সুস্থতার পেছনে নার্সদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পাশাপাশি রোগীর সার্বক্ষণিক পরিচর্যা, মানসিক সাহস জোগানো এবং জরুরি মুহূর্তে তাৎক্ষণিক সেবা প্রদানে নার্সরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় তাদের অবদান অনস্বীকার্য।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি ও অবস্) ডা. নাহিদা ইয়াসমিন এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স জাহানারা পারভীন। এছাড়া অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তুলতে কবিতা আবৃত্তি করেন সিনিয়র স্টাফ নার্স শামসুন নাহার এবং বিশেষ সংগীত পরিবেশন করেন মিডওয়াইফ মুক্তা রায়।
বক্তারা আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নার্সদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি সময়ের দাবি। একজন দক্ষ, মানবিক ও প্রশিক্ষিত নার্স একটি হাসপাতালের সেবার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে সক্ষম।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নার্সিং অফিসার, বিভিন্ন বিভাগের স্বাস্থ্যকর্মী ও অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দিবসটি উপলক্ষে নার্সিং পেশাজীবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় এবং ভবিষ্যতে আরও আন্তরিকতার সঙ্গে মানবসেবায় নিয়োজিত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং অফিসারবৃন্দ।
আন্তর্জাতিক নার্স দিবসের ইতিহাস
ইতিহাস থেকে জানা যায়, আধুনিক নার্সিং পেশার ভিত্তি স্থাপন করেন ফ্লোরেন্স নাইটেঙ্গেল। ১৮৫৩-৫৬ সালের ক্রিমিয়ান যুদ্ধে-এ আহত সৈনিকদের সেবায় অসামান্য অবদান রেখে তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। রাতের আঁধারে হাতে বাতি নিয়ে আহতদের সেবা করতেন বলে তিনি “লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প” নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর উদ্যোগে ১৮৬০ সালে লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালে বিশ্বের প্রথম আধুনিক নার্সিং স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে” ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অফ নার্স ” ১৯৬৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে নার্স দিবস পালন শুরু করে। ১৯৭৪ সালে ১২ মে দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রতি বছর ভিন্ন প্রতিপাদ্যে দিবসটি উদযাপন করা হয়, যাতে নার্সদের অধিকার, পেশাগত উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবায় তাদের অবদান বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা যায়।