
মোঃ শাহাবউদ্দিন ইসলাম আক্কেলপুর প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি শিশুদের বইখাতা পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকালে উপজেলার দুলালী-রত্নহার ভেনলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এ হামলা চালায়। তারা ঘরে ঢুকে আসবাব ভাঙচুর করে, শিশুদের বইখাতা পুকুরে ফেলে দেয় এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়।বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে আছে গৃহস্থালি জিনিসপত্র। কাঠের খাট, রান্নার হাঁড়িপাতিল, কাপড়চোপড়, টিনের চালার অংশসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে বসতবাড়িটির স্বাভাবিক পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, পূর্বের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় প্রাণভয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আশপাশে আশ্রয় নেন।
গৃহকর্তা মোস্তফা বলেন, ‘হাকিম মেম্বারের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জন হঠাৎ বাড়িতে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায়। আমাদের মারধর করে আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিস নিয়ে যায়। এতে প্রায় দুই লাখ থেকে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে অভিযোগও দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই তিনি তাদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে দাবি করেন মোস্তফা। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রায় দুই বছর ধরে এলাকায় জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের ধারণা।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম বলেন, ‘ওই জমিটি আমার ভগ্নিপতি আনোয়ার হোসেনের। তারা জোর করে দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেছিল। আমরা জায়গাটি দখলমুক্ত করেছি। সেখানে আমার ভগ্নিপতি বাড়ি করবেন।’
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।