
জেলা প্রতিনিধি, ভোলা-
ভোলার লালমোহনে অবৈধ আর্টিসনাল ট্রলিং বোটের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সাফল্যমণ্ডিত অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৬ ডিসেম্বর (শনিবার) সকাল ৯টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন লালমোহনের একটি টিম লালমোহন থানাধীন গজারিয়া সংলগ্ন নদী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে অবৈধ ট্রলিং বোট চলাচল এবং নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের অভিযোগ থাকায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছিল। এ পরিস্থিতিতে কোস্ট গার্ডের এ অভিযানকে এলাকাবাসী স্বাগত জানায়।
অভিযান চলাকালীন টহল টিম নদীপথে একটি সন্দেহজনক আর্টিসনাল ট্রলিং বোট শনাক্ত করে এবং গতি বাড়িয়ে বোটটিকে আটক করে। পরে বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকা মূল্যের ৬টি ট্রলিং জাল, ২টি নোঙর এবং প্রায় ১,২০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বোট পরিচালনায় জড়িত ৩ জন ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, আর্টিসনাল ট্রলিং বোটগুলো সাধারণত গভীর সাগর ও নদীতে অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশের মাধ্যমে স্থানীয় মাছ ধরা ব্যাহত করে। এসব বোটে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ ট্রলিং জাল মাছের প্রজননব্যবস্থা ধ্বংস করে এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে। ফলে দেশের মৎস্য সম্পদ নিরাপদ রাখতে এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অত্যন্ত জরুরি।
অভিযান শেষে জব্দ করা বোট, উদ্ধারকৃত জাল ও ডিজেলসহ সব আলামত এবং আটক তিনজনকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লালমোহন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত গ্রহণ ও আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের তথ্য প্রদানকারী ও মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মোঃ আবুল কাশেম, বিএন জানান, “মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, জলসীমা সুরক্ষা, অবৈধ ট্রলিং বন্ধ এবং অনুপ্রবেশ রোধে কোস্ট গার্ড সবসময় তৎপর। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
এদিকে স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষেরা কোস্ট গার্ডের এ সফল অভিযানকে প্রশংসা করেছেন। তারা জানান, অবৈধ বোটের কারণে নদী ও সাগরে মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছিল এবং ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছিল স্থানীয় জেলেসম্প্রদায়। এই ধরনের অভিযান তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে।
কোস্ট গার্ডের এই দ্রুত ও কার্যকরী
অভিযানের ফলে এলাকায় সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। ভবিষ্যতে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চালানো হলে নদী ও সাগর এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।