1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন

মাগুরায় প্রধান শিক্ষকের ভুয়া নিয়োগ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, স্কুলের দোকানঘর বরাদ্দেও অনিয়ম

  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২১৯ বার পঠিত

 

মুজাহিদ শেখ, স্টাফ রিপোর্টারঃ

মাগুরার মহম্মদপুর সরকারি আর.এস.কে.এইচ ইনস্টিটিউশন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম নাসিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও অর্থনৈতিক অনিয়ম করে  স্কুলের দোকানঘর বরাদ্দ সংক্রান্তও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর দৈনিক সমকালে প্রকাশিত টাঙ্গাইল জেলার একটি কলেজের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পত্রিকা কাটিং থেকে কাট-পেস্ট করে মহম্মদপুর সরকারি আর.এস.কে.এইচ ইনস্টিটিউশন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামে প্রকাশ করা হয়। অথচ বিজ্ঞপ্তিটি প্রধান শিক্ষক নিজেই সত্যায়িত করেন। সেই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে তার বোনসহ আরও ছয়জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১৫ সালের একটি পরিপত্রে বলা হয়েছে, ২২ অক্টোবর ২০১৫ থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সেই সময়ের পর প্রকাশিত কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। প্রধান শিক্ষক এই সুযোগে পুরোনো বিজ্ঞপ্তি ব্যবহার করে অবৈধ নিয়োগ বৈধ দেখানোর চেষ্টা করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয়টি প্রায় স্বজনপ্রীতিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিজে এবং তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও পরিচিতদের নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ—শিক্ষক আকবর হাসমত দিলু — প্রধান শিক্ষকের ভাগ্নে, শিক্ষক রোজিনা রোকসানা — প্রধান শিক্ষকের মামী, শিক্ষক খুরশিদ রহমান তিতাস — প্রধান শিক্ষকের আপন বেয়াই, সহকারী শিক্ষক চায়না সুলতানা — প্রধান শিক্ষকের স্ত্রীর বোন, সহকারী শিক্ষক শামীম মিয়া — প্রধান শিক্ষকের ভাগ্নে। আয়া হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তরা—আরমিন শিরিন — প্রধান শিক্ষকের আপন বোন, কেরানী রুনা আক্তার — প্রধান শিক্ষকের ভাবি। 

কিছু নিয়োগ পরবর্তীতে জাতীয়করণের মাধ্যমে বৈধ করা হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু নিয়োগ আছে যেখানে বিভিন্ন সময়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অর্থনৈতিক অনিয়মের মাধ্যমে স্কুলের দোকানঘর বরাদ্দ সংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে। দাবি করা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করা হয়েছে কিন্তু প্রকৃত বরাদ্দ প্রদান হয়নি। 

অভিযোগ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নাসিরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, “নিয়োগের সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। বিষয়টি প্রতিষ্ঠান প্রধানই ভালো জানবেন।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান, স্বজনপ্রীতি এবং দোকানঘর বরাদ্দে অনিয়ম শুধু অনিয়ম নয়, এটি পরিকল্পিত প্রতারণার উদাহরণ। তারা দ্রুত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD