
চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ
চট্টগ্রামের ধুমপাড়া সাগরপাড় রোডের পাশে ছোট্ট এক প্লাস্টিকের হাঁড়ি-পাতিলের দোকান। দিনে সাধারণ ক্রেতাদের আনাগোনা, দোকানদারের নিরীহ চেহারা—সবকিছু যেন সাধারণের চোখে নির্দোষ ব্যবসা। কিন্তু দোকানের আড়ালে লুকানো ছিল এক ভয়ঙ্কর প্রতারণার সাম্রাজ্য, যেখানে গত সাত বছর ধরে অসংখ্য মানুষকে সর্বনাশের অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছেন এক ব্যক্তি—ভুয়া কবিরাজ বাবুল শেখ।
এক অনুসন্ধানী টিম ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করলে প্রকাশ পায় ভয়ঙ্কর চিত্র। দোকানের ভেতর সাইনবোর্ডবিহীন গোপন চেম্বার। মেঝেতে বিছানো পুরনো কাপড়, পাশে রাখা রহস্যময় গুঁড়া, কোরআন শরীফের স্ট্যান্ড, মন্ত্র লেখা কাগজ, নানা রকম তাবিজ-কবচ। সামনে অসুস্থ রোগী বসে আছেন, যিনি আধুনিক চিকিৎসার পরিবর্তে এই প্রতারণার কবলে পড়ে জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ—বাবুল শেখের কোনো সরকারি অনুমোদন বা চিকিৎসা লাইসেন্স নেই। অথচ তিনি নিজেকে “ক্ষমতাধর কবিরাজ” পরিচয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন। সাহস করে কেউ প্রশ্ন তুললেই বাবুলের হুমকি—
“আমার পকেটে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ—সবাই আছে, কেউ আমাকে কিছু করতে পারবে না।”এই ভয় দেখিয়ে তিনি বছরের পর বছর প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত সাত থেকে দশ বছরে অসংখ্য মানুষ তার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। সংসারে অশান্তি, সন্তান না হওয়া, জন্ডিস, লিভার রোগ কিংবা মানসিক সমস্যার সমাধানের নামে প্রতিবার হাতিয়ে নিয়েছেন হাজার হাজার টাকা।
এক গৃহবধূ জানিয়েছেন, তিনি পাঁচ লাখ টাকা খরচ করেও সন্তান পাননি, এখন দেনার দায়ে পথে পথে ঘুরছেন। এক তরুণ লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন, কবিরাজের চিকিৎসায় অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে শেষ পর্যন্ত , শিশু
হাসপাতালে ভর্তি হন -দির্ঘদিন হাসপাতালে থেকে নিস্য হয়ে ঘরে ফিরেন,
সামাজিক লজ্জা ও নীরবতাঃ অধিকাংশ ভুক্তভোগী সামাজিক লজ্জা, ভয় আর হুমকির কারণে মুখ খুলতে চান না। তবে সাংবাদিকদের হাতে থাকা ভিডিও, ছবি ও সাক্ষাৎকার প্রকাশ পেলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় হবে বলে ধারণা স্থানীয়দের।
প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্নঃএতদিন কীভাবে এই অবৈধ প্রতারণার সাম্রাজ্য চললো—এ নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, থানা পুলিশ কিংবা স্বাস্থ্য বিভাগ কেউ কি জানত না? নাকি প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় সবকিছু চলেছে?
সমাজের জন্য হুঁশিয়ারিঃএকজন ভুয়া কবিরাজ মানেই শত শত পরিবারের সর্বনাশ। অর্থ, জীবন, মানসিক শান্তি ও সামাজিক মর্যাদা—সব ধ্বংস করে দিচ্ছে এ ধরনের প্রতারকরা।
জনসচেতনতার বার্তা:অন্ধবিশ্বাস নয়—রোগের সঠিক চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত ডাক্তার ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে নিন। তাবিজ-কবচ বা ভুয়া কবিরাজের কাছে গিয়ে আপনার জীবন যেন ধ্বংস না হয়।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান: অবিলম্বে ভুয়া কবিরাজ বাবুল শেখ ও তার মতো প্রতারকদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনুন, যাতে অন্য প্রতারকেরা ভয় পায় এবং এ ধরনের কালোবাজারি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়।