1. [email protected] : dailynayakontho :
  2. [email protected] : nayakantho3941 :
  3. [email protected] : nayakontho :
  4. [email protected] : unikbd :
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন

মামলার পর বাদীকে হুমকি বাড়িতে আবার হামলা, তিন নারীসহ আহত ৫। নয়া কণ্ঠ

  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ২২৮ বার পঠিত

মামলার পর বাদীকে হুমকি বাড়িতে আবার হামলা, তিন নারীসহ আহত ৫

স্টাফ রিপোর্টার অভি খায়রুল ইসলাম।

সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নে একটি ভয়ংকর সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন ইউপি সদস্য ইয়াসিন। তার নির্দেশে দেদারসে চলছে জুয়া, মাদক, জমি দখল, চাঁদাবাজি সহ নানান ধরনের অবিচার। মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ড এলাকায় তিনি গড়ে তুলেছেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বাজার। এ নিয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত এলাকার সাধারণ মানুষ।

রাত-দিন সমানেই ইয়াসিন মেম্বার বাহিনীর সদস্য মাদকসেবীদের মাতলামি সহ নানা কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ। সর্বশেষ তার শিকারে পরিণত হয়েছেন শ্যামলাসী বাহেরচর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম সাগর ও তার পরিবার।

গত কয়েক দিন যাবত ওই ব্যবসায়ী তার বাড়ির ছাদ ও আঙ্গিনায় জুয়ার বোর্ড বসানো ও মাদক সেবন করতে নিষেধ করে আসছিল। গত ২৯ নভেম্বর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত সাড়ে ৮ টায় পুরো পরিবারকে জিম্মি করে ইয়াসিন মেম্বার ওই বাড়ি-ঘরে ভাঙচুর চালিয়ে লুটপাটসহ তার পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে বেধড়ক পেটানোর ঘটনা ঘটায়।

বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও ভয়াবহ লুটপাটের ঘটনার পর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে মেম্বার ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৮ জনের বিরুদ্ধে গত ৫ ডিসেম্বর সাভার মডেল থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা (নং-১২) দায়ের করেন ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম সাগর।

তবে মামলা দায়েরের একদিনের মাথায় কৌশলী ইয়াসিন নিজে সহ তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তার এড়িয়ে বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ীর কারণে আইনের আওতায় আসায় আরো বেপরোয়া ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ইয়াসিন মেম্বারসহ তার বাহিনীর সদস্যরা।

ইয়াসিন মেম্বারের দ্বারা বাড়ি লুটের পর প্রতিবন্ধী শিশু, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও আরো দুই সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ছাড়া হয়ে পড়েন আমিনুল ইসলাম সাগর। পরিস্থিতি স্বাভাবিক ভেবে মাথা গোজার একমাত্র ঠাই লুট হওয়া বাড়ি মেরামতের কাজ করছিলেন তিনি। এমন খবর পেয়ে দুপুর ১ টায় দল বল নিয়ে হাজির হয় ইয়াসিন মেম্বার। মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি ও চাপ দিতে থাকেন তিনি।

কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মামলার বাদী আমিনুল ইসলাম সাগর ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী খাদিজা আক্তারের ওপর হামলা চালায় ইয়াসিন ও তার বাহিনীর লোকজন। এই সন্ত্রাসী হামলায় তিন নারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ।

আহতরা হলেন, আমিনুল ইসলাম সাগর (৩৩), অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী খাদিজা আক্তার (২৪), সাগরের শাশুড়ি আসমা বেগম (৩৫), নানী শাশুড়ি হাসিনা বেগম (৫২) ও সিএনজি চালক শাকিল শিকদার (২৮)। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাগরের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার্ড এবং সাগরকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আমিনুল ইসলাম সাগরের মাথায় ধারালো ছুরির কোপে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে ৬ টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা খাদিজা আক্তারের পেটে বাচ্চা নড়াচড়া না করায় কিছু পরীক্ষাসহ উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হামলার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মেম্বার ইয়াসিনসহ অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন অনেকে।

বাড়িতে হামলা ও লুটের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক ঘটনার সূত্রপাত ঘটায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাভার মডেল থানাধীন ভাকুর্তা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. আসওয়াদুর রহমান।

মামলার বাদী আমিনুল ইসলাম সাগরের ওপর আবারো হামলার ব্যাপারে তিনি বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। ঘটনাটি দুঃখজনক তবে অপরাধ করে পার পাওয়ার কারো সুযোগ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুতই দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন, বাহিনীর প্রধান ইয়াসিন (৫৫), সেকেন্ড ইন কমান্ড মামুন (২৪), শরিফ (২৫) সহ অজ্ঞাত ১০ জন।

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ইয়াসিনের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভুক্তভোগী সাগরকে নজরদারিতে রাখা মেম্বারের আত্মীয় পরিচয় দেওয়া তিনজন ব্যক্তিও ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ভুক্ত ভুক্তভোগীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন।

শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা পিপিএম। তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Developed By UNIK BD