ফুলবাড়ী কুড়িগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চন্দ্রখানা মাঠেরপাড় গ্রামে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি চৌকস দল গত বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন স্থানীয় চন্দ্রখানা মাঠেরপাড় গ্রামের মো. আবুল হোসেনের ছেলে মো. রাহিমুল হক রানা এবং মৃত সাজু মিয়ার ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে তা স্থানীয় পর্যায়ে খুচরা ও পাইকারি মূল্যে সরবরাহ করে আসছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের দলটি রাহিমুল হক রানার বসতবাড়ির আঙিনায় অবস্থিত একটি টিনশেড ঘরে আকস্মিক তল্লাশি চালায়। তল্লাশিকালে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ইয়াবার চালানটি উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্তদের আটক করা হয়। এই ঘটনাটি এলাকায় মাদক কারবারিদের গোপন আস্তানা এবং তাদের অপতৎপরতা সম্পর্কে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে, চন্দ্রখানা মাঠেরপাড় এলাকায় একটি চক্র নিয়মিতভাবে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে, যার ফলে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ আসক্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এই দুই ব্যক্তি এলাকায় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বা কৌশলী অবস্থানের কারণে এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। তাদের এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছিল এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, টিনশেড ঘরে মাদকের আড্ডা জমানোর কারণে সন্ধ্যার পর ওই পথ দিয়ে চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছিল। মাদক কারবারিরা মূলত সহজলভ্যতার সুযোগ নিয়ে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে তাদের বিপথগামী করছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা এই অঞ্চলের মাদক সিন্ডিকেটগুলোর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
অভিযান পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করে কুড়িগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ মো. রেজাউল করিম জানান, জেলায় মাদক নির্মূলে ডিবি পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রয়েছে এবং নিয়মিত অভিযানের ধারাবাহিকতায় এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের মাদকের উৎস এবং নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মাদক ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, বরং মাদক প্রবেশের মূল রুটগুলো বন্ধ করতে কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান এই বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী জনপদগুলোতে মাদকের বিস্তার রোধে এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এই সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করা কঠিন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে, মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা যেন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে মূল হোতাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে পারে, সেদিকে এখন সবার দৃষ্টি। স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের এই সহজলভ্যতা ও বিস্তার রোধে প্রশাসনের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠাতা - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা, অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ,
Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected], web:www.dailynayakontho.com.
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM