
ফুলবাড়ীতে ভুয়া দলিল লেখক খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে জমিজালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) উপজেলা প্রতিনিধি।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ভুয়া দলিল লেখক খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে জমি জবরদখল ও আইনি হয়রানির অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার চন্দ্রখানা মৌজার বালাটারি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া দলিল তৈরির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জমি আত্মসাৎ করে আসছেন। পেশায় দলিল লেখক না হয়েও নিজেকে দলিল লেখক পরিচয় দিয়ে খলিলুর রহমান প্রতারণার এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে গ্রামের এক এতিম পরিবারের জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, খলিলুর রহমান অত্যন্ত চতুরতার সাথে অসহায় মানুষের জমির নথিপত্র জালিয়াতি করে তা নিজের দখলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন। প্রতিবাদ করলে তিনি নিজের শরীরে আঘাত করে উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানির ভয় দেখান এবং মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। এই ধারাবাহিক প্রতারণা ও জবরদখলের প্রতিবাদে আজ ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা গেটে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। অভিযুক্ত খলিলুর রহমান অতীতে একটি হত্যা মামলায় জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, খলিলুর রহমান প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় নিজেকে আইনত শক্তিশালী প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে এতিম পরিবারের জমি দখলের ঘটনায় তিনি যে টালবাহানা শুরু করেছেন, তা স্থানীয় সমাজ ব্যবস্থায় গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, খলিলুর রহমান কেবল জমি দখলই করেন না, বরং আইনি জটিলতা তৈরি করে ভুক্তভোগীদের নিঃস্ব করে ছাড়েন। নিজের গায়ে আঘাত করে মিথ্যা মামলা দায়ের করার হুমকি দিয়ে তিনি এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভয়ের সংস্কৃতি কায়েম করেছেন। এলাকার জমি সংক্রান্ত নথিপত্রে জালিয়াতির যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছে, তা তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। খলিলুর রহমানের এহেন কর্মকাণ্ডে বালাটারি গ্রামের সাধারণ মানুষ আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন এবং তাদের পৈতৃক ভিটা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত খলিলুর রহমানের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। একটি গুরুতর হত্যা মামলার আসামি হয়েও জামিনে বেরিয়ে এসে কীভাবে তিনি পুনরায় জমি দখলের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন এবং জালিয়াতির প্রমাণ সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় এলাকাবাসী রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই এবং এতিমের জমি দখলের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত যে কাউকেই আইনের আওতায় আনা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে খলিলুর রহমানের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য অব্যাহত থাকলে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী অঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থাপনায় নৈরাজ্য দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের সুযোগ নিয়ে যারা ভুয়া দলিল তৈরি এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ উপার্জনের পথ বেছে নিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। খলিলুর রহমানের ন্যায় অপরাধীদের প্রশ্রয় দিলে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খলিলুর রহমানের সকল ভুয়া দলিলের বৈধতা যাচাই এবং তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোই এখন স্থানীয় প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভূমিদস্যুদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপই এখন একমাত্র সমাধান