স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ চানমিয়া শিকদার:
যুগে যুগে মানবজাতিকে চিন্তা-চেতনায় নির্ভরশীল হয়ে, পটো পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আধুনিকতা ও চাকচিক্যময় বিলাসিতায় চলমান থাকতে দেখা যায়। সভ্যতার বিবর্তনে মানুষ পরিবর্তনশীল, পরিবর্তনশীল সমাজ রাষ্ট্র ইতিহাস ঐতিহ্য । আধুনিকতার ছোঁয়ায় পরিবর্তন হয়েছে রাজধানী ঢাকা শহরের। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটির মাঝে পল্লী গাঁয়ের বাঁশের সাঁকোর প্রতিস্থাপন কতটা আধুনিকতা ও নান্দনিক ছোঁয়া এই ঢাকা শহর বহন করে এমনটাই প্রশ্ন রাষ্ট্র সরকারের দিকে ছুড়ে দিয়েছেন আদাবর ১০ নং রোডের শেষ মাথার বাসিন্দারা । ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নং ওয়ার্ডের ১০ নং রোডের শেষ মাথায় বাঁশের তৈরি এই সাঁকোটি আধুনিক আর চাকচিক্কে ভরা নান্দনিক এই ঢাকা শহরকে সত্যিকার অর্থেই কি নান্দীকতার ছোঁয়া এনে দিতে পেরেছে । সরোজমিনে তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায় দৈনিক নয়া কন্ঠের এক প্রশ্নের জবাবে নাম না বলার শর্তে অত্র এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ঢাকা শহর একটি ঘনবসতিপূর্ণ শহর। তার মধ্যে বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির আদাবর ১০ নং রোডের গুরুত্ব পরিসীম । অন্য এক বাসিন্দা বলেন, এই বাসের সাঁকোর উপর দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার গার্মেন্টস কর্মী শ্যামলী দ্বিতীয় হাউজিং প্রকল্পের উপর দিয়ে গার্মেন্টস ডিউটিতে চলমান থাকেন। এই বাঁশের সাঁকো পার হয়ে আদাবরবাসী শ্যামলী হাউজিং দ্বিতীয় প্রকল্প, গাবতলী সদরঘাট বেঁড়ীবাধ রোডে যাওয়া,স্থানীয় ব্যবসায়ীগণ সদরঘাট পুরান ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ক্রয় করতে যাওয়া, প্রতিদিন শতশত স্কুল কলেজ ভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীদের আসা-যাওয়া, এবং বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সহজ পথ হিসেবে আদাবর মনসুরাবাদ শেখেরটেক রফিক হাউজিং সহ বিভিন্ন হাউজিং প্রকল্পে স্থানীয় বাসিন্দা গন এই রাস্তাটি ব্যবহার করে থাকেন ।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক এই রামচন্দ্রপুর মৌজার খালটির উপরে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে হক গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব আদম তমিজি হক তার নিজ অর্থায়নে একটি স্টিলের সাঁকো করে দেন বলে এলাকাবাসী জানান । পরবর্তীতে স্টিলের সাঁকো ভেঙে ফেলে সরকারি অর্থায়নে একটি বক্স কালভার্ট ব্রিজ তৈরীর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইট বালু সিমেন্ট রড খোয়া ইত্যাদি উপকরণ দিয়ে পাইলিং এর কাজ শুরু হলেও অদৃশ্য শক্তির মহাপ্রলয়ে সে কাজটি ভেস্তে যায় । জনদুর্ভোগ জন দুর্যোগ হাহাকার আর্তনাদে ঘেরা স্থানীয় বাসিন্দাদের দু চোখের স্বপ্ন আজ নিমিষে তলিয়ে গেছে । মহা দুর্ভোগের পড়ে আছেন অত্র এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাগণ । এলাকাবাসীর আসা-যাওয়ার জন্য এলাকাবাসী নিজ অর্থায়নের চাঁদা তুলে কোনরকম এই বাঁশের সাঁকোটি দাঁড় করিয়ে রেখেছেন এবং সেটি মাঝে মধ্যে নষ্ট হয়ে ভেঙে পড়ে জনদুর্ভোগ তৈরি করে । অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলাফেরা করেন এলাকার স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা । রাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে আজও পর্যন্ত সাবেক রামচন্দ্রপুর মৌজা বর্তমান আদাবর থানার অন্তর্গত বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটির আদাবর ১০ নম্বর রোডের শেষ মাথায় এই বাঁশের সাঁকোটির পাকা করনের বিষয়ে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি এমনটাই বলছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ।
এ বিষয়ে দৈনিক নয়া কণ্ঠের সাথে স্থানীয় এক নগর উন্নয়নবিদের সাথে স্বল্প সময় কথা হলে তিনি জানান, একটি সুস্থ সমাজ ব্যবস্থা গড়তে হলে সুন্দর পরিবেশের অনেক বেশি প্রয়োজন, আর সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে সুন্দর মনের মানুষগুলো দ্বারা নগর উন্নয়ন লং টাইম রোডম্যাপ তৈরি করন বাজেট পরিকল্পনায় অর্থের যোগান, অপরিহার্য বলে তিনি জানান । তিনি আরো বলেন নান্দনিকতার ছোঁয়ায় চাকচিক্যময় এই ঢাকা শহরের মধ্যে এমন বাঁশের সাঁকো ঢাকা শহরকে সত্যিই প্রশ্নবিদ্ধ করে । এজন্য তিনি রাষ্ট্র সরকারের উক্ত সেক্টরের সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব রত কর্তৃপক্ষকে এবং বিষয়টি রাষ্ট্র সরকারের নজরদারিতে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং অচিরেই রাষ্ট্র সরকার নজরদারিতে নিবেন এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি ।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM