ফরিদ আহমেদ, পিরোজপুর সংবাদদাতা :
মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার আবু রায়হান সোহেল নামের এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা ও থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের দোহাই দিয়ে এই প্রতারণা চালানো হয়।
অভিযুক্ত আবু রায়হান সোহেল 'দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদ' ও 'দৈনিক কালের ধারা' পত্রিকার পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি এবং 'শীর্ষ খবর নেছারাবাদ' পেইজের এডমিনের দায়িত্বে আছেন।
ভুক্তভোগী মো. জাহাঙ্গীর মোল্লা জানান, "গত ২৩ মে তার স্ত্রী পরকিয়ায় আসক্ত হয়ে পাঁচ লক্ষ টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ নিয়ে পরকিয়া প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে ১ আগষ্ট নেছারাবাদ থানায় নিজে বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করার প্রলোভন দেখিয়ে পূর্বপরিচিত কথিত সাংবাদিক আবু রায়হান সোহেল টাকার দাবি করেন। এবং শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক হিসেবে পুলিশ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে তার সুসম্পর্ক রয়েছে বলে টাকার বিনিময়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পলাতক আসামিদেরকে গ্রেফতার করিয়ে দিতে পারবেন বলে জানান। সে অনুযায়ী তথাকথিত ‘অভিযানের খরচ’ এবং ‘প্রশাসনকে ম্যানেজ করার’ অজুহাতে দুই দফায় ২৪,০০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকা নেওয়ার এক মাস পার হলেও আসামিরা আছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। "
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার বারবার আসামির অগ্রগতি জানতে চাইলে উক্ত সাংবাদিক রূপ বদলান। সে গড়িমসি করে ভুক্তভোগীকে থানায় যোগাযোগ করতে বলেন।
ভুক্তভোগীর ভাইগ্না মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, "আসামিদেরকে ধরতে থানায় টাকা দেওয়ার কথা বলে আবু রায়হান সোহেল আমাদের কাছ থেকে দুই দফায় ২৪,০০০ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এর কারন জানতে চাইলে তিনি নানান অজুহাত ও টালবাহানা করেন।"
অভিযুক্ত সাংবাদিক আবু রায়হান সোহেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য ভুক্তভোগীর নিকট টাকা এনে আমি নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ১৫,০০০ টাকা দিয়েছি। এক মাসেও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট দেই । পরবর্তীতে ওসি'র অনুরোধে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় পোস্টটি ডিলিট করি।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, "কথিত সাংবাদিক আবু রায়হান আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছেন। আমার মানহানি করার জন্য ফেসবুকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক পোস্ট দিয়েছেন।"
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা সাংবাদিকের আসামি গ্রেফতার করার কিংবা তার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি গুরুতর অপরাধ। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরূপকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, মূলধারার সাংবাদিকতার সাথে চাঁদাবাজ ও হলুদ সাংবাদিকদের কোনো সম্পর্ক নেই। সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং এই চক্রের দৌরাত্ম্য থামাতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM