আরিফুল ইসলাম জয়পুরহাট প্রতিনিধি :
জয়পুরহাটে ১৭ হাজার টাকার ভ্যানকে কেন্দ্র করে শারীরিক প্রতিবন্ধী ভ্যানচালক ফরিদ হোসেনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামি সাগর মণ্ডলকে নওগাঁর আত্রাই এলাকা থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ফরিদকে প্রথমে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে একটি জমির কাদায় মাথা চেপে ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এরপর তার ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি নিয়ে যায় সাগর মণ্ডল ও তার এক সহযোগী। পরে ভ্যানটি মাত্র ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
ফরিদ হোসেন জয়পুরহাটের হোপীরহাট গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ফরিদ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হলে তার সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে নওগাঁর আত্রাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাগর মণ্ডলকে আটক করা হয়। এর আগে এ ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে ফরিদের নিখোঁজ হওয়া, তার ভ্যান বিক্রি এবং জয়পুরহাট সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের জিতারপুর এলাকার আখক্ষেত থেকে কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনার মধ্যে যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া গেছে। জয়পুরহাট জেলা পুলিশের সদর সার্কেল আরিফ হোসেন হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার জিতারপুর এলাকার একটি আখক্ষেত থেকে একটি কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। কঙ্কালের সঙ্গে থাকা পোশাক দেখে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, এটি নিখোঁজ ফরিদ হোসেনের। তবে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কঙ্কালটির পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সাগর মণ্ডল অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। অর্থের প্রয়োজন থেকেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অনলাইন জুয়ার সরাসরি যোগসূত্র এখনো তদন্তাধীন। এ ছাড়া সাগরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সাইকেল, গরু ও ছাগল চুরির অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এসব অভিযোগের সত্যতাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ফরিদ হত্যার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ডিএনএ, ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM