লোডশেডিংয়ে বিপাকে জয়পুরহাটের হিমাগার, আলু রক্ষায় বাড়ছে জেনারেটর ব্যয়
আরিফুল ইসলাম জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপাকে পড়েছেন জয়পুরহাটের হিমাগার মালিক, আলু ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় হিমাগারের নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখতে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে একদিকে বাড়ছে পরিচালন ব্যয়, অন্যদিকে সংরক্ষিত আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের।
জেলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাটে মোট ২২টি হিমাগার রয়েছে। এর মধ্যে কালাই উপজেলায় ১৪টি, ক্ষেতলালে ৪টি, পাঁচবিবিতে ২টি এবং আক্কেলপুরে ২টি। এসব হিমাগারে আনুমানিক দুই লাখ টন বীজ ও খাবার আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে।
হিমাগার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলু সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখা জরুরি। বিদ্যুৎ চলে গেলে সেই তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের পাশাপাশি হিমাগার পরিচালনার ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
কালাই উপজেলার পুনট কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার ঘোষ জানান, তাদের হিমাগারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বীজ আলু সংরক্ষিত রয়েছে। লোডশেডিং হলেই আলু নিরাপদ রাখতে জেনারেটর চালু করতে হয়। এতে শুধু জ্বালানি বাবদ প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।
আক্কেলপুরের গোপীনাথপুর হিমাগারের স্বত্বাধিকারী ফরহাদ আহম্মেদ বলেন, বর্তমানে তাদের হিমাগারে প্রায় ছয় হাজার টন বীজ ও খাবার আলু রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেনারেটর চালানো ছাড়া উপায় থাকে না। এতে ব্যবসায় অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
পাঁচবিবির চাঁনপাড়া এলাকার মেসার্স সাথী হিমাগার-৩-এর ব্যবস্থাপক রতন কুমার চৌধুরীও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বাড়তি ব্যয়ের কথা জানিয়েছেন।
ক্ষেতলালের হিমাদ্রী লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম জানান, তাদের হিমাগারে প্রায় এক লাখ ৫৬ হাজার বস্তা আলু রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ হাজার বস্তা বীজ আলু এবং অবশিষ্টগুলো খাবার আলু। বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘন ঘন বিঘ্ন ঘটলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় এ অবস্থা চললে আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালিয়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আবু উমাম মো. মাহবুবুল হক বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা সব সময় একই থাকে না। বিশেষ করে রাতের দিকে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিং করতে হয়। অতিরিক্ত গরমের সময়ও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। তবে কয়েক দিন আগের তুলনায় বর্তমানে লোডশেডিং পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM