পৌনে ১২ টায়ও অফিসে নেই গোয়ালন্দ উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুন, ফাঁকা কক্ষে ঘুরছিল ফ্যান
স্টাফ রিপোর্টার:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় কর্মকর্তার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে বেলা পৌনে ১২ টার দিকে উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা, তাহমিনা খাতুনকে তাঁর নির্ধারিত কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর অফিসকক্ষের দরজা খোলা এবং একটি বৈদ্যুতিক ফ্যান চলতে দেখা যায়। কক্ষে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীও ছিলেন না।
সরকারি দপ্তরের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত। এ সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে জনগণকে সেবা দেওয়ার কথা। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল পেরিয়ে দুপুর হলেও উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উপস্থিতি নেই। পরে সাংবাদিকের মুঠোফোনে কথা বলার পর বেলা ১২টার দিকে তিনি কার্যালয়ে আসেন। তাঁর অফিসকক্ষের দৃশ্য সরেজমিনে ধারণ করা ভিডিওতেও রয়েছে।
এদিকে, কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে তাঁর নির্ধারিত কক্ষে ফ্যান চলতে থাকায় সরকারি বিদ্যুতের অপচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কক্ষের চেয়ারগুলো ফাঁকা থাকলেও একটি বৈদ্যুতিক ফ্যান চালু ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে পরিচালিত কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেমন নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকা প্রয়োজন, তেমনি অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধে দায়িত্বশীল হওয়াও জরুরি।
তবে এ বিষয়ে উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুনের দাবি, তিনি সকালেই অফিসে এসেছিলেন। তিনি বলেন, আমি ১২টায় অফিসে আসিনি, আমি এসেছি ৯টা ১৫ মিনিটে। অফিসে এসে অফিস সহায়কের কাছে কিছু কাজ বুঝিয়ে দিয়ে ফিল্ডে গিয়েছিলাম।
তিনি জানান, তিনি সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে যোগ দিয়েছেন এবং তাঁর ছোট সন্তান রয়েছে। ফিল্ডের কাজ শেষে সন্তানকে খাওয়ানোর জন্য বাসায় গিয়ে আবার অফিসে ফিরেছেন।
তাহমিনা খাতুন আরও বলেন, তাঁদের কার্যক্রম সকাল ১০টার পর ফিল্ডভিত্তিক হতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা পর্যন্ত হেড অফিস থেকে সরাসরি মনিটরিং করা হয় এবং এরপর ফিল্ডের কাজ বা মিটিংয়ে অংশ নিতে হয়। পরে ফিল্ডের কাজের এন্ট্রি দিতে আবার অফিসে আসতে হয়।
তাঁর অফিসকক্ষে ফ্যান চলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি বের হওয়ার সময় একজন অফিস সহায়ককে কক্ষে রেখে গিয়েছিলেন। তাই ফ্যান বন্ধ না করার বিষয়টি তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে তিনি মনে করেন না। তবে ফ্যান চলতে থাকার বিষয়টি ঠিক হয়নি বলেও স্বীকার করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এখন দেশের যে অবস্থা, এই মুহূর্তে লোডশেডিংয়ের সময়ে এটা মোটেও ঠিক হয়নি।
অফিসের কর্মঘণ্টা সম্পর্কে তাহমিনা খাতুন বলেন, তাঁর অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সকাল ১০টার পর ফিল্ডের কাজে যাওয়ার নিয়ম রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সাইফুল হুদা বলেন,
বিষয়টি আমি দেখবো এবং এবিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদের অপচয় রোধ করাও প্রত্যেকের দায়িত্ব।
আর একই সংঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকা অবস্থায় সরকারি কার্যালয়ের কক্ষে বৈদ্যুতিক ফ্যান চালু থাকার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, সরকারি সম্পদ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত হলে একদিকে যেমন অপচয় কমবে, অন্যদিকে সরকারি সেবার মানও বাড়বে।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM