রাজশাহী ব্যুরোঃ
২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। এবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ বছর এ বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫২ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সারাদেশের সঙ্গে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটসহ নির্ধারিত অনলাইন মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ফলাফল জানতে পারে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিভাগের আট জেলার শিক্ষার্থীরা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। জেলাগুলো হলো—রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট।
বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন পাস করেছে। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছে। অপরদিকে, ৫টি বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
কমেছে পাসের হার
গত কয়েক বছরের ফলাফলের তুলনায় এবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কিছুটা কমেছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অনেকের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তবে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস ও আনন্দ।
ফল প্রকাশের দিন রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগের বছরগুলোর মতো বড় ধরনের জটলা কিংবা ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়নি। এর প্রধান কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ বিদ্যালয়ে না গিয়ে মুঠোফোন, ইন্টারনেট ও অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে ঘরে বসেই ফলাফল সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে।
অনলাইনেই ফল, কমেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভিড়
ফল প্রকাশের নির্ধারিত সময় সকাল ১০টার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন ও অনলাইন মাধ্যমে ফলাফল দেখতে শুরু করে। অনেক শিক্ষার্থী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাসায় বসেই ফলাফল সংগ্রহ করেছে। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
তবে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া শিক্ষার্থীরা বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেয়। কেউ কেউ শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করে শুভেচ্ছা বিনিময় করে।
অন্যদিকে, আশানুরূপ ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যারা প্রত্যাশিত গ্রেড বা নম্বর অর্জন করতে পারেনি, তাদের মধ্যে ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ দেখা যায়।
পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ
এদিকে ফলাফলে কোনো শিক্ষার্থী অসন্তুষ্ট হলে তার জন্য ফল পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা যাবে। কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারবে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, শুধু পাসের হার দিয়ে শিক্ষার সামগ্রিক মান বিচার করা যায় না। শিক্ষার্থীদের ফলাফলের পাশাপাশি বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফল, শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও ফলাফল পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের এবারের ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। আগামী দিনে ফলাফলের মানোন্নয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও কার্যকর একাডেমিক পরিকল্পনা ও তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM