গোয়ালন্দে ইউএনও সাথী দাসের বিরুদ্ধে ঝাড়ু ও জুতা মিছিল! ফ্যামিলি কার্ড শুমারির পরীক্ষায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
মোমিন শেখ:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল ও জুতা মিছিল করেছেন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থী এবং বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ঢাকা-খুলনা জাতীয় মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় বিক্ষোভ সমাবেশ।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত ২৮ জুলাই ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে ফলাফল তৈরি করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল ২৮ জুলাই তারিখে প্রস্তুত করা হলেও তা কয়েক দিন পর, সোমবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, ফলাফল বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় পুনরায় পরীক্ষা নিতে হবে।
মিছিল ও সমাবেশ চলাকালে বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন স্লোগানে গোয়ালন্দের রাজপথ মুখরিত হয়ে ওঠে। এ সময় ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘স্বৈরাচারের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘নিয়মের বাইরে পরীক্ষা কেন, জবাব চাই জবাব দাও’, ‘দাবি মোদের একটাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। ইউএনও সাথী দাসের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক স্লোগানও দেওয়া হয়। ইউএনও সাথী দাসের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে, সৈস্বাচার সৈস্বাচার ইউএনও সাথী দাস সৈস্বাচার।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচির জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হয়নি। একই পরিবারের একাধিক সদস্য এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকেও কয়েকজনকে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
‘২৮ জুলাই পরীক্ষা, ফল প্রকাশ ৩ আগস্ট কেন’!
বিক্ষোভ সমাবেশে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ও ছাত্রদল নেতা, মেহেদী হাসান লিমনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন: গোয়ালন্দ পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জিয়াউল হুদা উজ্জল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম মৃর্ধা মুক্তার, পৌর বিএনপির সদস্য মিজানুর রহমান লাল্টু, ছোটভাকলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা হিমেল, পরীক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা সুমন বেপারী, রাজন বিশ্বাস এবং গোয়ালন্দ পৌর জিয়া সাইবার ফোর্সের সদস্য সচিব, মো. মমিনুল ইসলাম সহ অনেকে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন: গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্র দলের সভাপতি, রেজাউল হাসান মিঠু, পৌর যুব দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম বেপারী, পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, মুক্তার মাহমুদ, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী, সালেহা আক্তার বুলবুলি , পৌর মহিলা দলের সভানেত্রী রাজিয়া দেলোয়ার, সাধারণ সম্পাদক রাশিদা আক্তার লিপি, সাংগঠনিক সম্পাদক শিল্পী আক্তার সহ অভিভাবক সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ২৮ জুলাই মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও ফলাফল ৩ আগস্ট রাতে প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, ফলাফল যদি ২৮ জুলাই তারিখেই তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে তা প্রকাশ করতে এত সময় লাগল কেন। তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন।
গোয়ালন্দ পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি, জিয়াউল হুদা উজ্জল বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য একই দিনে বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না এবং ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের বিষয়টিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি ফলাফল বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচিতদের তালিকায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন।
গোয়ালন্দ পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, রেজাউল করিম মৃর্ধা মুক্তার বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি পরীক্ষার ফলাফল অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে নতুন করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে। অন্যথায় জাতীয়তাবাদী শক্তি রাজপথে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলবে। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি!
পৌর বিএনপির সদস্য, মিজানুর রহমান লাল্টু বলেন, তারা বর্তমান ফলাফল মেনে নেবেন না। তার দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রথমে লিখিত পরীক্ষা এবং পরে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হলে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন সম্ভব হবে। তিনি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নতুন করে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানান।
ছোটভাকলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, গোলাম মোস্তফা হিমেল বলেন, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনেক মেধাবী প্রার্থী নির্বাচিত হননি বলে তারা জানতে পেরেছেন। তার দাবি, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজন হলে উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে হবে।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘ভালো পরীক্ষা দিয়েও তালিকায় নাম নেই’!
ফ্যামিলি কার্ড শুমারি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা সুমন বেপারী অভিযোগ করেন, তিনি মৌখিক পরীক্ষায় বেশির ভাগ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলেও চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম নেই। তার দাবি, অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত কম প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কিছু প্রার্থী তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
তিনি বলেন, তার ধারণা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেন ও অনিয়ম হয়েছে।
অপর পরীক্ষার্থী রাজন বিশ্বাস বলেন, ২৮ জুলাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ওই তারিখেই ফলাফলের কাগজ তৈরি করা হয়েছিল বলে তারা জানতে পারেন। কিন্তু ফলাফল প্রকাশ করা হয় ৩ আগস্ট রাতে। তার প্রশ্ন, ফলাফল তৈরি ও প্রকাশের মধ্যে কয়েক দিনের ব্যবধান কেন হলো।
তিনি আরও দাবি করেন, কিছু সরকারি চাকরিজীবী ও স্কুলশিক্ষকও নিয়োগ পেয়েছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ তালিকা ও প্রার্থীদের যোগ্যতার বিষয়টি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
ফ্যামিলি কার্ড শুমারি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা, মেহেদী হাসান লিমন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে বলে আমরা অভিযোগ করছি। একই পরিবারের একাধিক সদস্য ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আমরা এই ফলাফল বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে মেধার ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থী নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।
জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ!
এদিকে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কয়েকজন প্রার্থী।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দেওয়া ওই আবেদনে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস, সমাজসেবা কর্মকর্তা রুহুল আমিন, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. নিজামউদ্দিন ও তথ্যসেবা কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুনের যৌথ স্বাক্ষরে ফলাফল প্রস্তুতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, পরীক্ষায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ফলাফল তৈরি করা হয়েছে।
আবেদনকারীরা আরও দাবি করেন, একই পরিবারের একাধিক সদস্য এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষককে নির্বাচিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ফলাফল ৩ আগস্ট রাতে প্রকাশ করা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
মিছিল থেকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ!
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তদন্ত করা উচিত। তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তামূলক উদ্যোগ। এ কর্মসূচির মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহে যারা দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন।
বক্তারা ফলাফল বাতিল, অভিযোগ তদন্ত এবং পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি করেন।
মিছিল ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে সরকারি স্থাপনা ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের অনুরোধ মেনে শৃঙ্খলার মধ্যেই কর্মসূচি পালন করেছেন। তাদের বক্তব্য ও কর্মসূচি শেষে তারা চলে যান। সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ ছিল বলেও জানান তিনি।
‘নির্দিষ্ট অভিযোগ লিখিতভাবে দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’!
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে জানানো হলে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দায়িত্ব নিতে আসছেন এবং তিনি রাজবাড়ীতে অবস্থান করছেন। পরে নতুন ইউএনওকে গোয়ালন্দে নিয়ে আসার কথাও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসনের বক্তব্য!
বিক্ষোভ ও অভিযোগের বিষয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক, আফরোজা পারভীন বলেন, কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে দিতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ক্রাইটেরিয়া বা যোগ্যতা পূরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু বিক্ষোভের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যাবে না।
তিনি বলেন, অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে দাখিল করা হলে তা যাচাই করে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, ইউএনও সাথী দাসকে এরই মধ্যে রিলিজ করা হয়েছে এবং তিনি চলে গেছেন।
একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি ইউএনওকে! অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সাথী দাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, বদলির পরও গোয়ালন্দে ছিলেন সাথী দাস
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ইউএনও, সাথী দাসকে গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে খুলনা বিভাগে বদলি করা হয়। তবে বদলির আদেশের পরও তিনি কিছুদিন গোয়ালন্দে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে।
এর মধ্যে গত ২৮ জুলাই ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২৮ জুলাই তারিখে স্বাক্ষরিত ফলাফল সোমবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে ইউএনও, সাথী দাস গোয়ালন্দ উপজেলা থেকে বিদায় নিয়ে চলে যান।
অভিযোগ তদন্তে নিরপেক্ষ যাচাইয়ের দাবি!
ফ্যামিলি কার্ড শুমারির মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও তদারকির দায়িত্বে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এমন অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। বোর্ডের মূল্যায়ন, ফলাফল তৈরির সময়, স্বাক্ষরিত ফলাফল ও চূড়ান্ত তালিকা যাচাই করা হোক।
অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগ লিখিতভাবে দাখিল করা হলে তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সত্যিই কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি হয়েছে কি না, ফলাফল তৈরির পর প্রকাশে বিলম্বের কারণ কী এবং নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগ্যতা ও নিয়োগের মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই। অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হলেই কেবল পুরো বিষয়টির প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM