স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী শহরের রাবেয়া বিগবাজারের মালামাল প্রতারণামূলকভাবে সফটওয়্যারে বিভিন্ন পণ্যের বাড়তি ক্রয় মূল্য উল্লেখ করে সুকৌশলে প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার লিগ্যাল নোটিশের জবাবে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানীবহ গ্রামের সরাফত আলীর ছেলে প্রবাসী আইয়ুব আলী এ দাবী করে রাজবাড়ী জেলা বার এসোসিয়েশনের এ্যাডভোকেট খান মোহাম্মদ জহুরুল হকের মাধ্যমে জবাব প্রদান করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড়মুরারীপুর গ্রামের আব্দুল কাদের মোল্লার ছেলে আজাদ মোল্লার পক্ষে গত ২২ জুলাই প্রেরিত প্রেরিত লিগ্যাল নোটিশটি আইয়ুব আলীর হস্তগত হওয়ার পর তা দৃষ্টিগোচর করা হয়েছে। প্রেরিত নোটিশে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর দাবির বিপরীতে জবাব গ্রহিতা এবং তার সহোদর ভ্রাতা আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা লিটনের সাথে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের আলোকে জবাব প্রদান করা হয়।
জবাবে তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রেরিত লিগ্যাল নোটিশের যাবতীয় বক্তব্য মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রকৃত সত্য আড়াল করার একহীন মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। সেকারণে নোটিশের অভিযোগসমূহ সর্বান্তঃকরণে প্রত্যাখ্যান করেছেন। গত ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর আজাদ মোল্লা ও তার ভ্রাতা আব্দুর রাজ্জাক লিটনের সাথে ৩০ বছর মেয়াদী ভবন ভাড়া চুক্তিপত্র (নোটারী নং- ৯৭) এবং অস্থায়ী সম্পদ বিক্রয়ের হলফনামা (নোটারী নং- ৯৮) সম্পাদিত হয়। বিক্রয় সংক্রান্ত হলফনামার ৩ নং পৃষ্ঠায় বর্ণিত অঙ্গীকার অনুযায়ী: “রাবেয়া বিগবাজারের যাবতীয় দায়-দেনা আজাদ মোল্লা এবং আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা লিটন নিজ অর্থদ্বারা পরিশোধ করে দিবেন।” আজাদ মোল্লা ও তার ভ্রাতা আব্দুর রাজ্জাক লিটন বিভিন্ন কোম্পানী-প্রতিষ্ঠান সহ রাবেয়া বিগবাজার পরিচালনার ক্ষেত্রে যাবতীয় দায়-দেনা নিজ দায়িত্বে পরিশোধ করবেন। কিন্তু ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই প্রতিনিয়তঃ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পাওনা আদায়ের জন্য বর্তমান নিয়ন্ত্রনাধীন আইয়ুব হিলটপে এসে চাপ সৃষ্টি করায় বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে সময় অতিবাহিত করে আসছেন।
রাবেয়া বিগবাজারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ইনভেন্টরি সম্পন্ন করে দেখতে পাওয়া যায় প্রতারণামূলকভাবে সফটওয়্যারে বিভিন্ন পণ্যের বাড়তি ক্রয় মূল্য উল্লেখ করে সুকৌশলে প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকার মালামাল কম বুঝিয়ে দিয়েছেন। সকল বিষয় জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও পূর্বের দোকান পরিচালনাকালীন বিশাল দায়-দেনা ও মালামাল ঘাটতি গোপন রেখে প্রতারণা করেছেন। তাদের অপকর্মে তাদের প্রাক্তন হিসাবরক্ষক কাম ম্যানেজার মনিরুজ্জামান মনির সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তার লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। প্রেরিত নোটিশে উল্লেখিত ১ কোটি টাকার চেক (সিটি ব্যাংক) সংক্রান্ত বর্ণনা সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। কারণ এ চেকটি হস্তান্তরের সময় ‘ইনভেন্টরি চূড়ান্তকরণ এবং পূর্বের সমুদয় দায়-দেনা নিস্পত্তি ও মালামাল ঘাটতি সমন্বয়ের শর্তাধীনে’ জামানত-নিরাপত্তা চেক হিসেবে চেকটি প্রদান করা হয়েছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ব্যবসার শুরুতেই ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ টাকা এবং ব্যাংক চেকের মাধ্যমে আরও ৭০ লক্ষ টাকাসহ মোট ১ কোটি টাকা আজাদ মোল্লা ও তার ভ্রাতাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অথচ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ৩৮ লক্ষ টাকার মালামাল কম বুঝিয়ে দিয়ে এবং পূর্বের দায়-দেনা পরিশোধ না করে উল্টো জমা রাখা নিরাপত্তা চেকে অজুহাত তুলে ব্ল্যাকমেইল ও অসৎ উপায়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। জবাবের মাধ্যমে নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়সমূহ নিস্পত্তির আহ্বান জানানো হয়। না হলে চুক্তি ভঙ্গের অপরাধ ও প্রতারণার দায়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হবেন।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM