মোস্তাফিজুর রহমান লিটন রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী ফুরকান উদ্দিনকে ট্রেনে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) সুমনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। একই সঙ্গে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে দুটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেনে নেওয়ার পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রায় আট ঘণ্টাব্যাপী চলা রেললাইন অবরোধ প্রত্যাহার করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর ফলে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
মঙ্গলবার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রশাসন, বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দীর্ঘ আলোচনার পর শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত টিটিই সুমনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি কমিটি রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিষয় তদন্ত করবে। অপর কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়।
এ ছাড়া আহত শিক্ষার্থী ফুরকান উদ্দিনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গভীর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের নিয়মিত স্টপেজ চালুর সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।
বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য আগামী ৬ আগস্ট পুনরায় সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, “শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশাসন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা রেললাইন অবরোধ প্রত্যাহার করেছি। আমরা আশা করি, তদন্ত কমিটিগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত টিটিইর শাস্তি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিরাপদ রেলসেবা নিশ্চিত করার দাবিতে রাজশাহী রেললাইনে অবস্থান নেন। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেন আটকা পড়ে এবং শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর অনেক যাত্রী বিকল্প যানবাহনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সমঝোতা হওয়ায় বিকেলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয় এবং আট ঘণ্টা পর পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে রেলসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবার মান উন্নয়নে রেলওয়ের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ছবি সংগৃহীত।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM