নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধনে স্বচ্ছতা ও সর্বজনীন আয়োজনের দাবি
আল মামুন শিপন, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অস্থায়ী কার্যালয়ের সম্ভাব্য উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রবীণ নাগরিক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের যথাযথভাবে আমন্ত্রণ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রথম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা দায়িত্ব গ্রহণের পর হাজিপাড়ার ওয়াজিফা ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্থাপিত অস্থায়ী কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২৪ জুলাই কার্যালয়টির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রস্তুতি চললেও এলাকার সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট পক্ষের ঘনিষ্ঠ ও রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে চন্দ্রগঞ্জকে উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, জনমত গঠন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী অনেক ব্যক্তি ও সংগঠন উপেক্ষিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চন্দ্রগঞ্জকে উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠন মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি এবং জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাই এই অর্জন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক কৃতিত্ব নয়; বরং সমগ্র চন্দ্রগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও প্রত্যাশার বাস্তবায়ন। সেই কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিও সর্বজনীন, অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।
এলাকার কয়েকজন সচেতন নাগরিক বলেন, “চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বাস্তবায়ন পুরো এলাকার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকল শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা উচিত। এতে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং উপজেলা প্রতিষ্ঠার মূল চেতনাও সমুন্নত থাকবে।”
এদিকে,অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রথম নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা সাংবাদিকদের বলেন, নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা বা দাওয়াত প্রদান সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত এখনো গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে সকলের অংশগ্রহণে একটি সর্বজনীন ও স্মরণীয় আয়োজনে পরিণত করবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত তারিখ, কর্মসূচি ও অতিথি তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের মাধ্যমে বিদ্যমান আলোচনা-সমালোচনারও অবসান ঘটাবে।
উল্লেখ্য, চন্দ্রগঞ্জকে উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিনের দাবির পর সম্প্রতি সরকার নতুন উপজেলা হিসেবে এর প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এমন প্রেক্ষাপটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM