প্রাকৃতিক দুর্যোগে সদর উপজেলার কোনো মানুষ একবেলা অনাহারে থাকবে না'—ইউএনও, নিরুপমা রায়
মোমিন শেখ:
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সদর উপজেলা পরিষদের প্রশাসক, নিরুপমা রায় বলেছেন, সদর উপজেলার কোনো মানুষ দুর্যোগকালীন সময়ে একবেলা অনাহারে থাকবে না। আমাকে জানানো হলে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ মানবিকতা নিয়ে পাশে দাঁড়াবে। বাজেট নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা করবেন না। মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
রোববার বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় ইউএনও, নিরুপমা রায় বলেন, দুর্যোগের সময় দ্রুত যোগাযোগ ও তাৎক্ষণিক সাড়া নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ে একটি ছোট কিন্তু কার্যকর কুইক রেসপন্স টিম (Quick Response Team) গঠন করা হবে। এ টিমে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ বিভাগ, পল্লী বিদ্যুৎ, তথ্য অফিস, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন এনজিও এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রশাসকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি কনসাইজ টিম করব, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়। দুর্যোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলেও সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
ইউএনও, নিরুপমা রায় জানান, ইউনিয়ন পর্যায়েও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করে দ্রুত কুইক রেসপন্স টিম গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা কন্ট্রোল রুম চালু করা হবে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, যাতে যেকোনো দুর্ঘটনা বা দুর্যোগের খবর দ্রুত প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়।
তিনি বলেন, আমার প্রত্যাশা থাকবে, ইউনিয়নের যেকোনো জায়গায় কোনো দুর্ঘটনা বা দুর্যোগের ঘটনা ঘটলে সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের মধ্যে সেই তথ্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছে যাবে। তথ্য দ্রুত পেলে আমরা আরও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারব এবং মানুষের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে।
সভায় উপস্থিত জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও স্থানীয় জনগণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সময় বাস্তব পরিস্থিতির বিষয়ে প্রশাসনকে দ্রুত অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
মানবিক সহায়তার বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ইউএনও, নিরুপমা বলেন, সম্প্রতি একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকারি শুকনো খাবারের মজুত না থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) নির্দেশ দিয়ে প্রয়োজনীয় চাল, ডাল ও খাদ্যসামগ্রী কিনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমি বলেছিলাম, আগে মানুষকে বাঁচান। পরে হিসাব হবে। উপজেলা প্রশাসনের সামর্থ্য যতটুকু আছে, আমরা মানবিকভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াব। এই আস্থা আমি সদর উপজেলার মানুষের মধ্যে তৈরি করতে চাই।
ইউএনও, নিরুপমা রায় আরও বলেন, আমরা সবাই এই জনপদের মানুষ। আমাদের আত্মীয়-স্বজন, পরিবার এবং সাধারণ মানুষ যেন প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিরাপদ থাকে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুর্যোগকালীন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।
তিনি সভায় উপস্থিত সকল কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও অংশীজনদের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই টিম স্পিরিট ধরে রাখতে পারলে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা আরও সহজ হবে। মানুষের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।
সভায় উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, রেড ক্রিসেন্ট, এনজিও প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM