স্টাফ রিপোর্টার:
রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক, শেখ সোহেল রানা টিপুর নির্দেশে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন মামলায় আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকালে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের শ্রীপুর ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজবাড়ী জেলা শাখা ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রীপুর ফিলিং স্টেশন এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ এবং আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানারে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের উপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং সকল রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল’ লেখা ছিল। ব্যানারের নিচে আয়োজক হিসেবে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজবাড়ী জেলা শাখা ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনসমূহ’-এর নাম উল্লেখ করা হয়।
ভিডিওতে মিছিলকারীদের ‘টিপু ভাই ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘রাজবন্দীদের মুক্তি চাই’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ সময় অনেকের হাতে জাতীয় পতাকাও ছিল।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তারা এ ধরনের পদক্ষেপকে গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কারণে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিও জানান তারা।
কর্মসূচির কারণে কিছু সময়ের জন্য রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয়। এতে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এবিষয়ে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, শেখ সোহেল রানা টিপু বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের নেতৃত্বদানকারী একটি রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন মামলায় আটক সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দল ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে প্রশাসনিক বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যায় না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি জানাতে মাঠে নেমেছি এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
শেখ সোহেল রানা টিপু বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তারা সরকারের কাছে দ্রুত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও এর ফলে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান,
বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM