মো. শারীদ মোল্লা, নয়া কণ্ঠ ডেস্ক :
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া নৌপথে মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে দুটি বাসডুবির ঘটনায় যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
সর্বশেষ শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটে কে-টাইপ ফেরি ‘করবী’-তে ওঠার সময় র্যাম্প ভেঙে ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। তবে আগের নির্দেশনার আলোকে ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়। দুর্ঘটনার সময় বাসে চালক ও তাঁর সহকারী ছিলেন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এর আগে গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় অন্তত ২৬ জন যাত্রী নিহত হন।
দুই ঘটনার পরই পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সর্বশেষ দুর্ঘটনার ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় চার সদস্যের এবং জেলা প্রশাসন সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিগুলোকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এসবি সুপার ডিলাক্সের যাত্রী সাইদুল ইসলাম বলেন, “আমার সঙ্গে পরিবারের চারজন সদস্য ছিলেন। ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের নামিয়ে না দিলে হয়তো আজ আমরা কেউ বেঁচে থাকতাম না। তাই ভবিষ্যতে এই ঘাট ব্যবহার না করে পদ্মা সেতু দিয়ে যাতায়াত করব।”
স্থানীয় শিক্ষক ও সমাজকর্মী সফিক মণ্ডল বলেন, “সরকার প্রতিদিন এই ঘাট থেকে বিপুল রাজস্ব আয় করছে। অথচ ঘাটের অব্যবস্থাপনা দূর হচ্ছে না। বারবার দুর্ঘটনা আর তদন্ত কমিটি গঠন করে সমস্যার সমাধান হবে না।”
কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি আসলাম মিয়া বলেন, “দৌলতদিয়াকে আধুনিক নৌবন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি দ্বিতীয় পদ্মা সেতু দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।”
দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ায় ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে। তবে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানান, আড়াই মাসের ব্যবধানে দুটি বড় দুর্ঘটনা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। ২৫ মার্চের দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী যাত্রীদের ফেরিতে ওঠার আগে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের কারণেই শুক্রবারের দুর্ঘটনায় প্রায় ৪০ জন যাত্রী প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত আধুনিক ঘাট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দাবির আলোকে দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌপথে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান,
বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM