দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের দাবি জানালেন; গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর খান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফের বাস দুর্ঘটনা:
মোমিন শেখ:
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফের যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনার পর স্থানীয় জনসাধারণ, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী, মোঃ জাহাঙ্গীর খান, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে বারবার দুর্ঘটনা প্রমাণ করে যে এই অঞ্চলের মানুষের নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আজ সকালে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে এস বি সুপার ডিলাক্স নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করার সময় পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। সৌভাগ্যবশত দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, গত মার্চ মাসে একই এলাকায় আরেকটি ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ২৬ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। সেই ঘটনার পরও আমরা বারবার দাবি জানিয়েছি, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে নিরাপদ ও স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে হবে। আজকের ঘটনা সেই দাবিকে আরও জোরালো করেছে।
‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু সময়ের দাবি’
গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী, জাহাঙ্গীর খান বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া ঘাট। ঈদ, পূজা কিংবা জাতীয় ছুটির সময় এই নৌপথে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু এখনো মানুষকে ফেরিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়া পর্যন্ত একটি শক্তিশালী দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হোক। এটি শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি এই অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হবে।
তার ভাষায়, “স্বপ্ন নয়, বাস্তবে রূপ নিক আমাদের দ্বিতীয় পদ্মা সেতু। এটাই আজ দৌলতদিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এস বি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ, নৌ-পুলিশ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে বাসটি নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করেন।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন?
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে দীর্ঘদিন ধরেই ঘাটের অবকাঠামো, ফেরিতে ওঠানামার পদ্ধতি এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার অভাব, যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
একাধিক পরিবহন শ্রমিক জানান, ঘাটে যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে অনেক সময় দ্রুত পারাপারের তাড়নায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ করিডোর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজধানী ঢাকা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই রুট দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও শত শত পণ্যবাহী যানবাহন এই পথে চলাচল করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলে একটি দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে না, বরং দেশের বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে যাত্রাসময় কমে আসবে এবং ফেরিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষ মনে করছেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের স্থায়ী সমাধান হিসেবে একটি আধুনিক সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।
গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর খানও সেই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিটি দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে শুধু দুর্ঘটনা কমবে না, এই অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের নতুন দ্বারও উন্মোচিত হবে।”
তিনি বলেন, “দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে—এটাই আমাদের বিশ্বাস এবং দাবি।”
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান,
বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM