রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহী মহানগরীর রামচন্দ্রপুর বৌ-বাজারে দ্বিগুণ খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদার আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে গিয়ে দোকানীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) এর নির্ধারিত খাজনার বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।
রাসিক আওতাধীন রামচন্দ্রপুর বৌ-বাজারের ২০২৬ সালে ৬ লাখ ১৫ হাজার ৪৪৪/-টাকা ইজারা নিয়েছেন আমিনুল ইসলাম। তিনি জামানতের ৪ ভাগের এক ভাগ টাকা জমা দিয়েছেন। অবশিষ্ট অর্থ ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে দিতে হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গড়ে দোকান প্রতি ৪০-৫০ টাকা করে খাঁজনা আদায় করছেন ইজারাদার।
বৌ-বাজারের মাছ ব্যবসায়ী ভদু বলেন, আমি এই বাজারে প্রায় ১৭ বছর থেকে ব্যবসা করছি। যখন প্রথম এই বাজারে ব্যবসা শুরু করেছিলাম তখন ৫ টাকা করে দিতাম, একবছর আগে ২০ টাকা দিতাম। ইজারার চার্টে মাছ ব্যবসায়ীর ২০ টাকা ইজারা থাকলেও ৪০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। আবার কোন রশিদ ও দিচ্ছেন না ইজারাদার।
সবজি বিক্রেতা নারী মোসাঃ আমিনা বলেন, প্রায় ১০ বছর থেকে এই বাজারে ব্যবসা করে আসছে। প্রতিদিন ১০০০ টাকার মাল কিনে নিয়ে আসি। ২০০-৩০০ টাকা লাভ হয়। আর এই লাভ থেকেই খাজনার টাকা ও দোকান ভাড়া দিতে হয়। তবে ১ বছর আগেও ১০-১৫ টাকা করে খাজনা দিতাম এখন ইজারার চার্টে সবজি ১৬ টাকা থাকলেও এই ইজারাদার আমার কাছ থেকে ৪০ টাকা করে খাজনা নিচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা নাজিম উদ্দিন বলেন, আমি এই বাজারে প্রায় ১৭ বছর যাবৎ ব্যবসা করছি। প্রথমে ৩ টাকা করে খাজনা দিতাম এরপর ৫ টাকা, এরপর ৮ টাকা পরে ১০ টাকা। গত বছর ১৫ টাকা করে চাঁদা দিতাম কিন্তু এখন ৪০ টাকা দিতে হচ্ছে। বৌ বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, এক বছরের ব্যবধানে আমাদের আয়-রোজগার দ্বিগুণ হয়নি। কিন্তু রাসিকের নির্ধারণ করে দেয়া ইজারার তালিকা উপেক্ষা করে আমাদের কাছে খাজনা দ্বিগুণেরও বেশি নেয়া হচ্ছে। দোকানীরা আরও বলেন, এই বাড়তি খাজনা আমাদের জন্য অতিরিক্ত হয়ে গেছে। আমরা স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ী, তাই তো রাস্তার পাশে ধুলা ময়লার মধ্যে বসে কাঁচা মাল বিক্রি করছি।
নতুন ইজারাদারের কাছে আমরা অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু তিনি আমাদের সাথে মারমুখি আচরণ করেছেন এবং হুমকি দিয়ে বলেছেন টাকা দিতে না পারলে চলে যাও। আবার সরকারি রশিদ চাইলেও তিনি দেন না।
তারা আরও বলেন, ইজারাদারের পরিচিত লোকজনের কাছে ১৫-২০ টাকা নিচ্ছেন। ফলে আমাদের বেঁচা-কেনাও কমে গেছে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রিটনের কাছে আকুতি জানিয়ে এই দোকানি বলেন, তিনি যেন এই খাজনা কমিয়ে আমাদের সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসেন।
বাড়তি খাজনা তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদার আমিনুল ইসলাম বলেন, গতবারের তুলনায় এইবার অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে টেন্ডার নেওয়া হয়েছে । তাই দোকান প্রতি ৩০-৪০ টাকা খাজনা তুলছি। এই ৩০-৪০ টাকা একটা দোকানির কাছে সামান্য বলে আমি মনে করি। এতে তাদের সমস্যা হওয়ার কথা না বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে রাসিক রাজস্ব শাখার আবু সালেহ মোঃ নূর-ই-সাঈদ বলেন, টেন্ডার হওয়ার পর থেকেই এই বাড়তি খাজনার বিষয়ে আমরা অভিযোগ শুনছি। তবে যদি ব্যবসায়ীরা গণস্বাক্ষর দিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন, তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রাসিক সচিব সোহেল রানা বলেন, ইজারার টাকা ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। যদি পরিশোধ না করে তবে তা অবৈধ হিসাবে গণ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত খাঁজনা আদায় করার অনুমতি নেই। রামচন্দ্রপুর বাজারে নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত ইজারা আদায় করা হলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে তার ইজারা বাতিল ও হয়ে যেতে পারে।
রাসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, বৌ-বাজার থেকে অতিরিক্ত ইজারা আদায় করা হলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM