মোঃ রাজিবুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টকর:
ঢাকার ধামরাইয়ে নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন নাহিদা আক্তার (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী।
২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ বৃহস্পতিবার বিকেলে ধামরাই পৌরসভার লাকুড়িয়াপাড়া এলাকায় এ শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত নাহিদা ধামরাই সেন্ট্রাল স্কুলের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্রী ছিলেন এবং চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। তার মা লিজা আক্তার বর্তমানে প্রবাসে রয়েছেন এবং বাবা নুর হোসেন বরিশালে থাকেন। মা-বাবা কাছে না থাকায় নানী দেলোয়ারা বেগমের সঙ্গেই ওই বাড়িতে থাকতেন নাহিদা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় বাড়িতে পড়াশোনা করছিলেন নাহিদা। বিকেলে নানী দেলোয়ারা বেগম দুধ আনতে বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় নাহিদাকে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ রাখার এবং অপরিচিত কেউ আসলে দরজা না খোলার কড়া নির্দেশ দিয়ে যান। কিন্তু কাজ শেষে ফিরে এসে নানী দেখেন দরজা খোলা। এরপর রান্নাঘরের মেঝেতে নাতনিকে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নানীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চুরি নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড?
স্বজনদের দাবি, নাহিদার কানের দুল ও গলার চেইন খোয়া গেছে। তারা ধারণা করছেন, গহনা ছিনতাই করার উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকেছিল। তবে এটি নিছক ছিনতাই নাকি এর পেছনে অন্য কোনো পূর্বশত্রুতা বা পরিকল্পনা রয়েছে, তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে।
নিহতের মামা মো. খোকন শোকার্ত কণ্ঠে বলেন, “আম্মা সামান্য সময়ের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন সব শেষ! আমাদের মেয়েটাকে ওরা এভাবে মেরে ফেলল কেন?”
পুলিশের বক্তব্য:
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, সংবাদ পেয়ে সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও যোগ করেন, “আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আমাদের টিম কাজ করছে।”
একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অকাল ও নিষ্ঠুর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোক এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান,
বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM