স্টাফ রিপোর্টার কৃষ্ণ কুমার সরকারঃ
রাজবাড়ীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আমতলা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়।
র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজবাড়ী শহিদ খুশি রেলওয়ে মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ।
এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিককর্মীরা অংশ নেন।
র্যালি শেষে রেলওয়ে মাঠে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।
মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা পণ্য, খেলনা, হস্তশিল্প ও মুখরোচক খাবারের স্টল স্থান পায়।
এদিকে রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বর্ষবরণ উদযাপন পর্ষদের উদ্যোগে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এরপর সমবেত সংগীত, দলীয় ও একক নৃত্য পরিবেশনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
সকাল সাড়ে ৯ টায় ২০ টা ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়, যা শহর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অনুষ্ঠানস্থলে ফিরে আসে।
র্যালি শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
দিনব্যাপী এ আয়োজন চলতে থাকে আনন্দঘন পরিবেশে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ দৈনিক নয়া কন্ঠকে বলেন, নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা- পৃথিবী শান্তিময় হোক, সব ধরনের যুদ্ধ বন্ধ হোক এবং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাক।
বর্ষবরণ উদযাপন পর্ষদের সংগঠক এজাজ আহম্মেদ ও ওরুণ কুমার সরকার বলেন, আমরা চাই দেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত হোক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়িত হোক এবং সমাজে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হোক।
এছাড়া রাজবাড়ী আজাদী ময়দানে জাসাসের উদ্যোগে দিনব্যাপী গান, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন উদ্বোধন করেন মাননীয় সাংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলীন নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। এতে স্থানীয় শিল্পীরা অংশ নিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
শুধু জেলা শহরই নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়েও দিনব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র্যালি ও মেলার আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেয় মানুষ।
সব মিলিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনে রাজবাড়ীতে বাংলা নববর্ষ উদযাপন হয়ে উঠেছে এক প্রাণবন্ত উৎসবে।