মো শারীদ মোল্লা বিশেষ প্রতিবেদকঃ
রিদপুরের দিগন্ত জোড়া মাঠে এখন সাদা ফুলের সমাহার। দূর থেকে দেখলে মনে হয় মাঠজুড়ে কেউ সাদা নকশিকাঁথার চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। এটি আসলে ‘কালো সোনা’ নামে পরিচিত পেঁয়াজ বীজের কদম। চলতি মৌসুমে ফরিদপুর জেলায় এই পেঁয়াজ বীজের রেকর্ড আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার বীজ বিক্রির আশা করছে কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকরা।
দেশের মোট পেঁয়াজ বীজের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই জোগান দেয় ফরিদপুর জেলা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর এক হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু আবাদ হয়েছে প্রায় এক হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। কৃষি বিভাগের ধারণা, এ বছর জেলায় প্রায় এক হাজার ১০০ টন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদিত হবে। গত বছরের গড় বাজারমূল্য (পাঁচ হাজার টাকা কেজি) অনুযায়ী যার মোট বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা।
ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বীজ উৎপাদনে গত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রথম থেকেই সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছে।’ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বিপুল ‘কালো সোনা’র উৎপাদন সফল হলে তা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
ফরিদপুরের বীজের গুণগত মান উৎকৃষ্ট হওয়ায় দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কৃষক বক্তার হোসেন খান বলেন, ‘ভারতের নিম্নমানের বীজ আমদানি বন্ধ করলে দেশি কৃষকরা আরও লাভবান হবেন।
এদিকে মাঠভরা পেঁয়াজ ফুলের অপরূপ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় করছেন এই স্থানে। ঘুরতে আসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রায়হান বলেন, ‘ফরিদপুরের বিখ্যাত পেঁয়াজ বীজের মাঠ দেখে আমি অভিভূত।’
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান,
বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM