দৈনিক নয়া কণ্ঠ ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঋণখেলাপিদের প্রার্থী হওয়া এবং সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা দেশে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অনেক ঋণখেলাপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হয়েছেন।
অর্থনীতিবিদ মইনুল ইসলাম বলেন,
“ঋণখেলাপিদের সংসদে আসার সুযোগ করে দেওয়াটা খুবই খারাপ সিদ্ধান্ত।”
আইনের ফাঁক গলে প্রার্থীতা
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুযায়ী ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। তবে বাস্তবে দেখা গেছে—নির্বাচনের আগে আংশিক ঋণ পরিশোধ, ঋণ পুনঃতফসিল এবং উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন,
“আইন অনুমতি দিয়েছে বলেই আমরা ঋণখেলাপিদের ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছি।”
যাঁরা আলোচনায়
নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হওয়া বা আলোচনায় থাকা ঋণখেলাপিদের মধ্যে রয়েছেন—
এদের মধ্যে কেউ কেউ শত শত কোটি টাকার ঋণখেলাপি ছিলেন, তবে নির্বাচনের আগে ঋণ পুনঃতফসিল বা আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।
খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র
বাংলাদেশ ব্যাংক-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩০.৬০ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন,
“যাঁরা ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করেন না, তাঁদের সংসদে যাওয়া স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে। এতে বিনিয়োগ কমে, কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হয় এবং অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
এদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন,
আদালতের স্থগিতাদেশের সুযোগ নিয়ে অনেকেই পুরো মেয়াদ পার করে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক।
আইন থাকা সত্ত্বেও তার দুর্বল প্রয়োগ এবং আইনি ফাঁকফোকরের কারণে ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদে পৌঁছে যাচ্ছেন—যা দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতির জন্য একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান,
বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM