স্টাফ রিপোর্টার: রিমন হোসেন
টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রর্তাহারপূর্বক সিনিয়র সহকারী কমিশনার খুলনায় পরবর্তী পদায়ন সংক্রান্ত নোটিশ পাঠানো হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জনপ্রশাসনের এক প্রজ্ঞাপনে, সিনিয়র সহকারী সচিবের সাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি ১০ মার্চ প্রকাশ করা হয়।
এর আগে সদ্যবিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আবু সাইদ ঘাটাইলের উন্নয়ন সহ ঘাটাইলকে এক মডেল উপজেলা গড়ার লক্ষে নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে গেছেন।
হঠাৎ করে প্রত্যাহারের ঘোষণা আসায় ক্ষোব্ধ ঘাটাইলবাসী, বিশেষ করে ঘাটাইলের পাহাড়ি জনপদের সাধারণ জনগনের নিকট খুবই পরিচিত হয়ে উঠেছিল ইউএনও মো: আবু সাইদ। তিনি পাহাড় কে কাজে লাগিয়ে সম্ভাবনাময় মডেল ঘাটাইল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, পাহাড়ের লাল মাটি কাটায় সে কঠোরভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা নির্মুলের পথে নিয়ে গিয়েছিল। ঘাটাইলবাসী এটাই কামনা করছে এই উন্নয়নের ধারা যেন অহ্বাহত থাকে ভবিষ্যতে।
সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আবেগঘন স্টেটাস :
প্রিয় ঘাটাইলবাসী,
আসসালামু আলাইকুম।
১ বছর ১৮ দিন দায়িত্ব পালন শেষে আজ বদলিজনিত বিদায় নিয়ে ঘাটাইল ছেড়ে চলে যাচ্ছি। দায়িত্ব পালন কালে আমার প্রশাসনের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ক্ষমতায়ন। ৫ আগস্ট পরবর্তী জন আকাঙ্ক্ষা পূরণে জনগণের জন্য প্রশাসনের দরজা খোলা রেখে, তাদের সমস্যাগুলো শুনে সঠিক পরামর্শ বা সমাধান দেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য।
এছাড়া রাতের আঁধারে লাল মাটির পাহাড়খেকো দুর্বৃত্তদের দমন করা ছিল সবচেয়ে পরিশ্রমসাধ্য কাজ। প্রায় রাত ১০ টা পর্যন্ত অফিস করে রাত ৩ টা পর্যন্ত মাটিকাটা প্রতিরোধে রমজানে ডিউটি আমার অনন্য অভিজ্ঞতা। আয়তনে টাঙ্গাইলের সবচেয়ে বড় এই উপজেলার ৭০ টি পয়েন্টে ভেক্যু চলতো তখন রাতে, কারা এগুলোর সাথে জড়িত ছিল তা আপনারা ভালোভাবে জানেন, যা এখন প্রায় শূন্যের কাতারে।
কর্মকালীন সময়ে প্রায় ছোট বড় আনুমানিক প্রায় ৭০০ টি রাস্তার উন্নয়ন সম্পাদিত হয়েছে সরকারি অর্থায়নে। ঘাটাইলকে ব্র্যান্ডিং করতে I Ghatail ছিল অনন্য উদ্যোগ। গণমানুষের চিত্ত বিনোদনের জায়গার অভাব নিরসনে সাগরদিঘী বিনোদন কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ এখন প্রায় শেষের দিকে, শীঘ্রই তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
ঘাটাইলবাসীকে কথা দিয়েছিলাম সকল সংশয় উপেক্ষা করে শতভাগ স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার। আমার বিশ্বাস আমি কথা রাখতে পেরেছি। বাকিটা আপনারা মূল্যায়ন করবেন।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার কারণে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আমাকে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। তা সহ্য করতে না পেরে আমার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর গর্ভপাত হয়েছে, যা আমার ব্যক্তিগত জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। ঘাটাইলের জনগণ আগামীতে এর বিচার করবে, কেননা আমার দৃঢ় বিশ্বাস ঘাটাইলবাসী সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে না।
বিভিন্ন অপপ্রচারের জবাব আমি আমার ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের নিকট দিয়েছি, কিন্তু রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সাথে অনলাইনে তর্ক-বিতর্ক চাকরি বিধিতে না থাকায় পেশাদার আমলা হিসেবে তা আমি উপেক্ষা করি।
সর্বোপরি ঘাটাইলবাসীর যে অকৃত্রিম ভালোবাসা পেয়েছি, তা আমাকে সারাজীবন কৃতার্থ করবে।
ভালো থাকুক ঘাটাইলবাসী।
ভালো থাকুক ভালোবাসার ঘাটাইল।
ইতি
আপনাদের সদ্যসাবেক ইউএনও
ও
প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী
মো: আবু সাঈদ