
রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন গণকপাড়া মোড়ে, বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন রাজশাহী জেলা এর আয়োজনে ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদানসহ ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস বাস্তবায়ন এবং রমজানে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধসহ এক মাসের মজুরির সমপরিমাণ উৎসব বোনাসের দাবিতে এক সমাবেশ (২৫/৩০) অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আঃ খালেক, সভাপতি, বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন, হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ,
আরো উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলার জনাব ফিরোজ হোসেন, আহবায়ক, হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক জনাব ফিরোজ হোসেন , যুগ্ম আহবায়ক জনাব মোঃ মিঠুন , ও জনাব মোঃ আজাদ, এবং সদস্য মোঃ জাহিদ ।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, সারাদেশের ন্যায় রাজশাহী জেলার হোটেল ও রেস্তোরাঁ শ্রমিকরা দীর্ঘদীন ধরে তাদের অধিকার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। তারই প্রেক্ষিতে হোটেল রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের জন্য সরকার নিম্নতম মজুরির গেজেট ঘোষণা করেছে। ৪টি গ্রেডে বিভক্ত এই গেজেটে রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের সর্বনিম্ন গ্রেডের মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩০৫০ টাকা। কিন্তু হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরের মালিকরা এই গেজেট বাস্তবায়ন করছে না। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ মোতাবেক শ্রমিকদের নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদানসহ ৮ ঘন্টা কর্মদিবস নির্ধারিত রয়েছে। এর অতিরিক্ত সময়ের কর্মঘন্টার জন্য আইনে দ্বিগুণ মজুরি প্রদানের নিয়ম থাকলেও অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার জন্য কোন মজুরি প্রদান করা হচ্ছে না। শ্রমিকদের সাপ্তাহিক ছুটিসহ সবেতনে বাৎসরিক ছুটি ও উৎসব ছুটি প্রদান করা হয় না। এছাড়াও নৈমিত্তিক ছুটি, অসুস্থতাজনিত ছুটিসহ বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ ও শ্রম বিধিমালা-২০১৫ এর কোন বিধি-বিধান মালিকরা বাস্তবায়ন করছে না।
তাই নিম্নলিখিত দাবিগুলো টায় তারা তুলে ধরেন ।
ক. অবিলম্বে হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেট বাস্তবায়ন করতে হবে।
খ. নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদানসহ ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস বাস্তবায়ন করতে হবে।
গ. রমজানের অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই- নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ ১ (এক) মাসের মজুরির সমপরিমাণ ঈদবোনাস প্রদান করতে হবে।
ঘ. বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী সবেতনে মে দিবসের ছুটিসহ বৎসরে ২০ দিন বাৎসরিক ছুটি, ১৩দিন উৎসব ছুটি প্রদান করতে হবে। একই সাথে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সবেতনে ১২০ দিন মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রদান করতে হবে।
ঙ. ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি ও ১৪দিন অসুস্থতাজনিত ছুটিসহ শ্রম আইনের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে।
চ. ট্রেড ইউনিয়ন করার কারণে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে কোন শ্রমিককে ছাঁটাই-চাকুরিচ্যুতি করা যাবে না।
উল্লেখ্য, হোটেল শ্রমিক ফেডারেশনের দাবি বাস্তবায়িত না হলে লাগাতার কর্মসূচি চলবে মর্মে ঘোষণা দেন।