স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নে তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবুবকর সিদ্দিক ওরফে শাহ আলমের নাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়, যখন অভিযুক্ত শাহ আলম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন।
ভিডিও বার্তায় শাহ আলম অভিযোগটি “মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রপাগান্ডা” বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ—বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি পক্ষ—তার পারিবারিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই এ অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভাটারা ইউনিয়নের ভাটারাপূর্ব পাড়া গ্রামে মনোহারী ব্যবসায়ীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয়দের অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার সময় ওই গৃহবধূ বাড়ির গোসলখানায় কাপড় ধুচ্ছিলেন। এ সময় শাহ আলম হঠাৎ বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। গৃহবধূ বাধা দিলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার ছেলে ঘটনাটি দেখে ফেললে অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর ছেলে সিয়াম বলেন,“আমার মা গোসলখানায় কাপড় কাচছিলেন। হঠাৎ শাহ আলম ঢুকে জোরজবরদস্তি করে। মা চিৎকার করলে সে পালিয়ে যায়। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তবে গৃহবধূর স্বামী মনোহারী ব্যবসায়ী তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন,
“দল ও এলাকাবাসী বিষয়টি দেখছে। সময়মতো এর বিচার হবে।”
এ বিষয়ে ভাটারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির খান বলেন,
“শাহ আলমের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। প্রায় এক বছর আগে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়। বর্তমানে তাকে কোনো দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয় না।”
অভিযুক্ত শাহ আলম সাংবাদিকদের বলেন,মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রপাগান্ডা” বলে উল্লেখ করেন।আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সাম্প্রতিক সময়ে তার আচরণ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও তারা দাবি করেন। তাদের মতে, এসব কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ ঘটনায় সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাটারা ইউনিয়নে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।