
রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আজ সোমবার বেলা ১১টায় সিনেট ভবনে আসন্ন গণভোট বিষয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (বিমক) সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
রাবি উপাচার্য প্রফেসর সালেহ্ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বেসরকারি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মো. খাদেমুল ইসলাম মোল্যা, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর এম ছায়েদুর রহমান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সাকিব আনজুমের পিতা মাইনুল হক, আহত জুলাই যোদ্ধা হাফিজুল ইসলাম (চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগ), বিশিষ্ট সমন্বয়ক মেহেদী হাসান সজীব (সমাজকর্ম বিভাগ), সালাহউদ্দিন আম্মার (ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ), শাহরিয়ার (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়), সাফিন (রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), মাহিন (এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), শোভা (বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়) প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
রাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন সভায় স্বাগত বক্তৃতা দেন। রাবি ছাড়াও রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রতিনিধিবৃন্দ এই মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন।
রাবি ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ইফতিখারুল আলম মাসউদ মতবিনিময় সভাটি সঞ্চালনা করেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ৯ মাস ধরে প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলাপ-আলোচনা-পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যে ঐক্যমত্যে পৌঁছানো গেছে তার ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়। বিগত চুয়ান্ন বছরের বিশেষ করে গত ১৫ বছরের দুঃশাসন, অনিয়ম-দুর্নীতি, গুম- খুন, নির্যাতন-নিপীড়ন, নির্বাচনহীনতা ইত্যাদি যাতে আর ফিরে আসতে না পারে তা রোধের উপায় হচ্ছে এ গণভোট। একটি আদর্শ রাষ্ট্রগঠনের জন্য এই গণভোট সুযোগ করে দিয়েছে। গণভোটে জনগণের সচেতনতা ও সুবিবেচনা বাংলাদেশকে রাষ্ট্র হিসেবে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, গণভোটের আগে যে সময় অবশিষ্ট আছে তাতে যুক্তিপূর্ণ ভাষায় জনগণকে বোঝাতে পারলে এখনো অনেক কিছু করার আছে। এখানে যারা রয়েছেন তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সে বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি বিমক সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের চালিকাশক্তি হিসেবে জুলাই সনদ এক অভূতপূর্ব সুযোগ এনে দিয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগানোর দায়িত্ব দেশের জনগণের। বৈষম্য-বঞ্চনা দূর করতে আমরা সবাই যেন দেশ ও জনগণের সুন্দর আগামীর স্বার্থে গণভোটে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি এজন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে রাবি উপাচার্য বলেন, বিগত বছরগুলোর অপশাসন, গুম-খুন, নির্যাতন-নিপীড়ন যাতে আবার দেশের মানুষের উপর চেপে না বসে তা নিশ্চিত করতে গণভোটে হ্যাঁ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। আমাদের সমাজে গত ১৬ বছর ধরে এক ভয়ের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার অবসান ঘটেছে। আমাদের ভয় ভেঙ্গে গেছে। ভবিষ্যতের শাসকরা যেনতেনভাবে সরকার পরিচালনা করবেন তা আর হবেনা- এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। এখন সময় হয়েছে জাতি গঠনের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার। আর তার বাস্তবায়ন হতে পারে গণভোটে কেবল ইতিবাচক রায়ের মধ্য দিয়ে।
গণভোট প্রসঙ্গে উপাচার্য আরো বলেন, গণভোট না থাকলে ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচন নিয়ে আমার তেমন একটা আগ্রহ থাকত না। আমি ভোট দিতে যাব প্রধানত গণেভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে। কারণ আমি মনে করি এটা রক্তের ঋণ পরিশোধের সুযোগ।