সাইফুল হাসান গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
আন্তর্জাতিক শিশু সংগঠন কচি কণ্ঠের আসর আজ তার প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে। গত পাঁচ দশক ধরে সংগঠনটি বিশ্বব্যাপী শিশুদের কল্যাণ, অধিকার সংরক্ষণ এবং সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। ১৯৭৬ সালের ১৫ জানুয়ারি, বিশিষ্ট শিশুসংগঠক হেমায়েত হোসেন-এর উদ্যোগে কচি কন্ঠের আসর একটি জাতীয় শিশু সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি শিশু অধিকার ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংগঠনটির বিকাশকালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক ও দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রদান করেন। পরবর্তীতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার, বেগম খালেদা জিয়া এবং হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ-এর মতো জাতীয় নেতৃবৃন্দ প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সংগঠনটির কার্যক্রমে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সমর্থন অব্যাহত রাখেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ দিন উপলক্ষে কচি কণ্ঠের আসর, সংগঠনের অগ্রযাত্রায় অবদান রাখা একাধিক উপদেষ্টা ও শুভানুধ্যায়ীকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য প্রয়াত বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা শাহ আবদুল হালিম, সাবেক স্পিকার শামসুল হুদা চৌধুরী, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সাংবাদিক সানাউল্লাহ নূরী, বিশিষ্ট বুধিজীবী ও লেখক ড. মিজানুর রহমান শেলী, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হেনা, বিটিআরসি’র সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মারগুব মোর্শেদ, অধ্যক্ষ হামিদা আলী, কিংবদন্তী চিত্রশিল্পী মুস্তফা মনোয়ার এবং কিংবদন্তি নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ও সাধক সোহরাব হোসেন। বর্তমানে কচি কণ্ঠের আসর আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংগঠনটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি শিশু অধিকার সংরক্ষণ, মানবপাচার প্রতিরোধ, শিশুশ্রম নিরসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং শিশুদের সাংস্কৃতিক বিকাশে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ও শিশুদের জন্য একটি সবুজ টেকসই ও উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাও সংগঠনটির অন্যতম অগ্রাধিকার। যুদ্ধ ও সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সহায়তা প্রদান কচি কন্ঠের আসরের আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০০০ সাল থেকে কচি কণ্ঠের আসর ইউএসএ নিউইয়র্কে নিবন্ধিত একটি নন প্রফিট প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে। এটি ইউনিসেফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিশু-কেন্দ্রিক।