নিজস্ব প্রতিবেদনঃ
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বহরপুর (বাহিরচর) গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক সৌদি প্রবাসীর সংসার ভেঙে পড়েছে। এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে পড়েছে তাদের ১১ বছর বয়সী একমাত্র কন্যা, যার ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী রুবেলের সঙ্গে প্রায় ১২ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় বিন্তি আক্তারের। দাম্পত্য জীবনে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান। স্ত্রী ও সন্তানকে ভালোভাবে রাখার আশায় কয়েক বছর আগে রুবেল সৌদি আরবে পাড়ি জমান।
অভিযোগ উঠেছে, প্রবাসে থাকার সময় সহকর্মী পরিচয়ের সূত্র ধরে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বালিয়াশিশি গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে প্রবাসী অসিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বিন্তি আক্তারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় দুই বছর ধরে ওই সম্পর্ক চলছিল বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
একপর্যায়ে বিন্তি আক্তার স্বামীর বাড়ি থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বামীর দেশে ফেরার খবর শোনার পর গত ১৯ নভেম্বর তিনি বাড়ি ছাড়েন। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান, সাধারণ ডায়েরি, আদালতের সার্চ ওয়ারেন্ট এবং পুলিশি তৎপরতার মাধ্যমে একাধিকবার তাকে উদ্ধার করা হলেও পুনরায় বাড়ি ছাড়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলেও কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও তাকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে ভেঙে পড়া সংসারের সবচেয়ে করুণ চিত্রটি ফুটে উঠেছে শিশুটির জীবনে। মায়ের শূন্যতায় দিশেহারা কন্যাটি বাবার কাছেই দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, শিশুটির চোখেমুখে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট। তার একটাই প্রশ্ন— “মা আমাদের ছেড়ে গেল কেন?”
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বালিয়াশিশি এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, অসিমের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে ও পরকীয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি এলাকায় চরিত্রহীন ও বখাটে হিসেবে পরিচিত। অসিমের প্রথম স্ত্রীও অভিযোগ করে বলেন, প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে পরবর্তীতে তাকে তালাক দেওয়া হয় এবং এ ধরনের ঘটনায় পরিবারের সহযোগিতাও ছিল।
অন্যদিকে বিন্তি আক্তারের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, পারিবারিক টানাপোড়েন ও ভুল বোঝাবুঝির মধ্যেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার ঘটনা নয়; বরং স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার থেকে সৃষ্ট সামাজিক অবক্ষয়ের একটি প্রতিফলন। তারা বলেন, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা দুর্বল হয়ে পড়ায় এমন ঘটনা বাড়ছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সচেতন মহল দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি শিশুটির সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM