সাবিত রিজওয়ানঃ
তুফান একটি ট্রেনিং সেন্টারে তিন মাস ধরে কঠোর ট্রেনিং সম্পন্ন করেছিল। ট্রেনিং শেষে সেন্টারের কর্তৃপক্ষ ও ট্রেইনাররা ট্রেইনিদের বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরিতে পাঠাতেন, যাতে তারা বেকারত্ব থেকে মুক্তি পায়। কিন্তু তুফান এবং তার কয়েকজন সহপাঠীর ক্ষেত্রে নিয়োগের পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল—২০ জন ট্রেইনির মধ্যে তুফানসহ সাতজনই প্রস্তাবিত কোম্পানিতে চাকরি করতে চাইছিল না।
ট্রেনিং শেষে সবাই ছয় দিনের বিশ্রাম পায়। চাকরিতে যাওয়ার দিন, ২০ জনের মধ্যে চারজন আর সেন্টারে উপস্থিত হয় না। কিন্তু তুফানকে অবশ্যই আসতে হয়। বাড়ি থেকে ট্রেনিং সেন্টার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে হলেও তাকে যাতায়াত করতে হয়।
তুফানসহ তিনজন ট্রেইনার ট্রেইনিং কর্মকর্তাদের জানায়,
“স্যার, আমরা এই কোম্পানিতে চাকরি করতে পারব না। রাতের ডিউটি আমাদের জন্য সম্ভব নয়, আর যে বেতন দেওয়া হবে, তা দিয়ে আমাদের চলবে না। এছাড়া আমরা কিছুটা অসুস্থও।”
সত্যিই, তুফান এবং হাসান দুজনই অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু ট্রেইনাররা এ কথাগুলো গুরুত্ব না দিয়ে তাদের নিয়ে ঢাকা—উত্তর বাড্ডায় কোম্পানির একটি অফিসে ইন্টারভিউ-এর জন্য নিয়ে যায়। ইন্টারভিউ শেষে একজন রাগ করে চলে যায় এবং চাকরি করতে অস্বীকার করে। বাকি ১৫ জনকে নরসিংদীর কোম্পানিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
কোম্পানিতে পৌঁছেও তারা দুইজন ট্রেইনারকে জানায়,
“স্যার, আমরা এখন চাকরি করতে পারব না। আমাদেরও তো ইচ্ছে থাকা উচিত।”
৩০–৪০ মিনিটের আলোচনার পর, তুফান, হাসান এবং ট্রেইনাররা তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তবে হাসান রওনা হয় দিনাজপুরের দিকে।
গল্পটি শেষ হলেও তুফানদের এই পরিস্থিতি আমাদের শেখায়—জীবনে কখনও কখনও বাধ্যবাধকতার সঙ্গে ইচ্ছের সংঘাত ঘটতে পারে, এবং সিদ্ধান্ত নিতে গেলে সাহসের দরকার হয়।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান,
বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM