কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ৫নং বুরুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে নানা ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ। স্থানীয়রা বলছেন, পরিষদের কার্যক্রম এখন এক ব্যক্তির—ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজাহানের—নিয়ন্ত্রণে, যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের ১২ জন নির্বাচিত সদস্য থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে সীমিত কয়েকজনের মাধ্যমে। টিআর, কাবিটা ও ১% তহবিলের অর্থ ব্যবহারের কোনো স্পষ্ট হিসাব নেই। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে সরকারি ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
একাধিক ওয়ার্ড সদস্য জানিয়েছেন, পরিষদের ওয়ান পার্সেন্ট তহবিলের এক বড় অঙ্কের অর্থ কোথায় খরচ হয়েছে তা তারা জানেন না। জানা গেছে, ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য আল আমিন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য লিমা খাতুন ছাড়া অন্য কাউকেই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয় না। “আমাদের মতামতকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে আমাদের সঙ্গে আলোচনাও হয় না,” বলেন এক সদস্য।
এছাড়া, সমম্পতি আলমদী এলাকায় একটি পুরনো ভাঙা সেতুর সংস্কারের কাজ নিয়েও উঠেছে অভিযোগ। স্থানীয়রা দাবি করেন, নিম্নমানের কংক্রিট ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, প্রকৌশল তদারকিও অনুপস্থিত। অনেকের ধারণা, চেয়ারম্যান নিজেই সরকারি তহবিলের বড় অংশের অপব্যবহার করতে চাইছেন।
প্যানেল চেয়ারম্যান শাহজাহান সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ওয়ান পার্সেন্ট তহবিলের টাকা দিয়ে একটি স্কুলের গেট নির্মাণ করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর সংস্কারও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী করা হচ্ছে।”
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদ এখন কার্যত একজনের দখলে চলে। তাদের মতে, সাধারণ সদস্য ও স্থানীয় জনগণ তাদের অধিকার ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। “আমরা চাই প্রশাসন তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করুক এবং দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক,” বলেছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাজাহান পরিষদের কার্যক্রমে একচ্ছত্র প্রভাব প্রতিষ্ঠা করেছেন। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এভাবে চলতে থাকলে ইউনিয়নের উন্নয়ন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় মানুষের সেবা বাধাগ্রস্ত হবে।
পরিষদে সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তারা আশা করছেন, স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল ও প্রকল্পের যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করবে।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM