ইমদাদুল হক রানা, রাজবাড়ী :
“আমি কন্যা শিশু — স্বপ্নে গড়ি, সাহসে লড়ি, দেশের কল্যাণে কাজ করি” — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস ২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
র্যালিতে নারী-পুরুষ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সমাজসেবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফরোজা জেসমিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ওয়াসিম আকরাম, দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা মনীষা বিশ্বাস, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা হোসনেআরা, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান আতিক এবং উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাব সভাপতি সঞ্জিত কুমার দাস প্রমুখ।
র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফরোজা জেসমিন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন—
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সজল কুমার সোম,
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ওয়াসিম আকরাম,
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আরাফাত,
দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা মনীষা বিশ্বাস,
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা হোসনেআরা,
বালিয়াকান্দি প্রেসক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান আতিক,
ও উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাব সভাপতি সঞ্জিত কুমার দাস প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কন্যা শিশু কোনোভাবেই সমাজের বোঝা নয়। সঠিক শিক্ষা, পুষ্টি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে কন্যা শিশুরাই ভবিষ্যতে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
তাঁরা আরও বলেন, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ ও কন্যা শিশুদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে কন্যা শিশুর প্রতি যত্ন, ভালোবাসা ও সম্মান।
বক্তারা বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও নারী নিপীড়ন রোধে সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সভায় জানানো হয়, বর্তমান সরকার শিশুদের সুরক্ষা, উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করছে। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৫ শতাংশ শিশু, যার প্রায় অর্ধেকই কন্যা শিশু। তাদের উন্নয়নে শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারির সময় কন্যা শিশুরা সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হয়েছে—এই প্রেক্ষাপটে এবারের দিবসটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ৬২ শতাংশ নারী মনে করেন ছেলে সন্তান হলে পরিবারের মর্যাদা বাড়ে, এবং ৫৮ শতাংশ নারী মনে করেন মেয়েসন্তান জন্মালে পারিবারিক আনন্দ কমে যায়। এই মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানাতেই জাতীয় কন্যা শিশু দিবসের তাৎপর্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, পূর্বে ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় কন্যা শিশু দিবস হিসেবে পালিত হলেও, ২০২৫ সাল থেকে ৮ অক্টোবর দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ উপলক্ষে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরাধীন সকল জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
বক্তাগণ শেষ বক্তব্যে বলেন“কন্যা শিশু প্রতিটি পরিবারের আশীর্বাদ। তাদের সুরক্ষা, শিক্ষা ও বিকাশে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে—তবেই গড়ে উঠবে বৈষম্যহীন, মানবিক বাংলাদেশ।”
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান,
বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM