ইমদাদুল হক রানা রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
এগিয়ে আসছে শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবের আমেজে ভরে উঠেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিটি উঠোন। জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জার কাজ। এ বছর রাজবাড়ী জেলায় মোট ৪৩৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সদর উপজেলায় ১১০টি, গোয়ালন্দে ২৫টি, বালিয়াকান্দিতে ১৪৯টি, কালুখালীতে ৫৭টি এবং পাংশায় ৯৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একের পর এক সভা ও মতবিনিময়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দও মাঠে সক্রিয়। বিএনপি,জামাত সহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা মণ্ডপে মণ্ডপে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। গ্রাম পর্যায়েও গঠিত হচ্ছে সমন্বয় কমিটি।
মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাজার কালীবাড়ি, মধ্যবাজার সার্বজনীন পুজা মন্দির, গোসাইবাড়ি মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে সাজসজ্জা ও রঙতুলির ব্যস্ততা।
বহরপুর মধ্যবাজার সার্বজনীন দুর্গামন্দির পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী রাম সাহা বলেন, “প্রশাসনের সার্বক্ষণিক সহযোগিতায় এবারও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন করা হবে। মন্দিরে নিরাপত্তা হিসেবে সিসি ক্যামেরায় স্থাপন করা হয়েছে”।
ইসলামপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর সার্বজনীন পুজা উদযাপন কমিটির সেক্রেটারী প্রশান্ত কুমার শুশান্ত কুমার সিকদার জানান, “প্রতি বছর গ্রামের দু’টি পূজামণ্ডপে আয়োজন হয়। এবারের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ, সবাই মিলে আনন্দঘন পরিবেশে আশাকরি শারদীয় দূরগা উৎসব পালন করতে পারব। সাজসজ্জার কাজ চলছে।”
বহরপুর কালীবাড়ি সার্বজনীন মন্দিরের সহযোগী শ্রী বিপ্লব কুমার পাল, শ্রী সঞ্জয় কুমার কুণ্ডু ও অনিমেষ দাস বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ। প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। আশা করছি, শান্তিপূর্ণভাবেই পূজা সম্পন্ন হবে।”
গণপত্যা সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রী প্রদ্বীপ কুমার মণ্ডল বলেন, “এখানে হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ নেই। সবাই মিলে উৎসব পালন করি। নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী কমিটি কাজ করবে।”
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব বলেন, “জেলা পুলিশের সব ইউনিট, গোয়েন্দা শাখা ও সাইবার টিম সর্বোচ্চ সতর্কতায় কাজ করছে। পূজাকালীন প্রতিটি মণ্ডপে কঠোর নজরদারি থাকবে।”
রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রাজবাড়ী-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র আর সফল হবে না। সনাতনী ভাইবোনেরা নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারবেন—এ লক্ষ্যে বিএনপির নেতাকর্মীরাও শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।”
রাজবাড়ী জেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রতিমার সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা আর ধর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনায় মুখর হয়ে উঠেছে প্রতিটি মণ্ডপ। প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণভাবে এবারের দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে সুধী সমাজ ।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান,
বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM