ইমদাদুল হক রানা রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া-পাংশা সংযোগ সড়কের ঘিকমলা চত্রা নদী এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ সড়কের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ভাঙনে বিপর্যস্ত সড়ক যোগাযোগ
সরেজমিনে দেখা গেছে, খাটিয়াগড়া ঘিকমলা অঞ্চলে সড়কের বিশাল অংশ ধসে পড়েছে। বর্তমানে রিকশা-ভ্যানের মতো ছোট যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও ট্রাক ও বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। নদীর অপর প্রান্তের সড়কও ভেঙে গেছে, ফলে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চত্রা সেতুর দুই পাড়ও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, চত্রা নদী খননের দায়িত্ব পাওয়া একটি দুর্বৃত্তচক্র অনুমোদন ছাড়া সড়কের পাশ থেকে অতিরিক্ত মাটি কেটে বিক্রি করেছে। এ কারণে সড়ক দুর্বল হয়ে নদীতে ধ্বসে পরেছে গেছে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সড়ক নির্মাণ করেছে। অথচ অপরিকল্পিত খনন ও মাটি কাটার কারণে সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখন এই সড়ক সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত খনন কাজ এবং রাস্তা নির্মাণের সময় প্যালা সাইড না থাকায় ভাঙনের মাত্রা বেড়েছে। এর ফলে চরবিলধামু, চরঘিকমলা, খাটিয়াগড়া ও মরাবিলা গ্রামেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী (এলজিইডি) খন্দকার রাহাত ফেরদৌস বলেন,
“বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড চত্রা নদী খননের সময় রাস্তার পাশ থেকে গভীরভাবে অপরিকল্পিত মাটি কাটার ফলে এ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ফরিদপুর অঞ্চলিক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনন্দ কুমার ঘোষ ও রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ হোসেন ইতোমধ্যেই পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে প্রতিদিন ভাঙনের মাত্রা বাড়ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে নারুয়া-পাংশা সড়ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গ্রামীণ জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান,
বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM