কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ আবারও বড় পরিমাণ দানের অর্থ উদ্ধার করেছে। ৩০ আগস্ট, শনিবার সকালে মসজিদের ১৪টি দানবাক্স খুলে ৩২ বস্তায় মেলে ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিশাল অঙ্ক। এর সাথে মিলেছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও। রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী হারেছী জানিয়েছেন, গণনা প্রক্রিয়া চলমান, তবে সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা গণনা করা হয়েছে।
পাগলা মসজিদের ঐতিহ্য ও দানের ধারা
কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকায় অবস্থিত পাগলা মসজিদটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থানই নয়, বরং এর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও দানের ঐতিহ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে মুসলিম, হিন্দু সহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মানত ও দান করে আসছেন, যা তাদের বিশ্বাস অনুসারে তাদের মনোবাসনা পূর্ণ করতে সহায়ক বলে ধারণা করা হয়।
ঐতিহাসিকভাবে, একসময় এখানে একটি আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের বাসস্থান ছিল, যার পরে এ স্থানটি মসজিদে রূপান্তরিত হয়। তার মৃত্যুর পর থেকেই এ মসজিদে দান ও মানতের ধারা চালু হয়, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
গণনা প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪০০ জনের অংশগ্রহণ
৩২ বস্তা অর্থের গণনা প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রায় ৪০০ জনের একটি বিশাল দল এতে সহায়তা করছে। মসজিদ কমিটির সদস্য, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় ব্যাংক কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মচারী সবাই এ কাজে যুক্ত হয়েছেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিজাবে রহমত, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী সহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারা।
ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের বিশাল পরিকল্পনা
পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানের একটি মসজিদ কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত হবে। এতে একসাথে ৩০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। এই প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় প্রাক্কলিত করা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা।
দানের অর্থের সমাজসেবায় ব্যবহার
পাগলা মসজিদের দান থেকে প্রাপ্ত অর্থ শুধু মসজিদের উন্নয়ন ও সংস্করণেই নয়, বরং এটি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। করোনা মহামারীর সময় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবককে সহায়তা প্রদান করা হয়েছিল। মসজিদের আয় থেকে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচিতেও সহায়তা দেওয়া হয়।
রেকর্ড সৃষ্টি: নতুন দানে নতুন মাইলফলক
পাগলা মসজিদে গত বছরের এপ্রিল মাসে ১১টি দানবাক্স খুলে প্রায় ৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছিল, যা ছিল তার সময়কার একটি বিশাল পরিমাণ। তবে এবারের ৩২ বস্তায় পাওয়া ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা নতুন এক রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। গণনা এখনও চলমান রয়েছে এবং আরও অর্থের পরিমাণ জানা যাবে শীঘ্রই।
ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা
পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা রয়েছে, ভবিষ্যতে আরো বড় এবং আধুনিক উন্নয়ন করা। মসজিদের আয়ের মাধ্যমে স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজে আরও বেশি অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে।
এভাবেই পাগলা মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় স্থান হয়ে নয়, এটি সমাজে সেবা, স্বেচ্ছাসেবিতা এবং দান-অনুদানের মাধ্যমে বৃহত্তর কল্যাণের পথ দেখাচ্ছে, যা দেশের অন্যান্য জায়গায় একটি আদর্শ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM