মহসিন আলম মুহিন
হিমালয় নন্দিনী, মাতা মেনকার কন্যা,
হিন্দু শাস্ত্র মতে শিব পত্নী উমা-"দুর্গা" নামে অন্যনা।।
শরৎকালের-আশ্বিন প্রাতে কাঁসরের বাজনা মাঝে মহাধুমধামে উমা আসে পিতৃআলয়ে,
কখনো ঘোটকে, কখনো নৌকায়, কখনো দোলায়, কখনো গজের পিঠে উমা আসে মহালয়ে।।
তার আগমনে সনাতন ধর্মের উঠোন গুলো মহাআনন্দে ভাসে,
দেবীর বোধন-মহালয়ায় দেবী ভক্তরা আবার মহা খুশীতে নাচে ।।
উমা আসে পরিবারবর্গ নিয়ে,লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গনেশ,
বাহন সিংহ, স্বামী সহ পুজোর পরিবেশে,
উমাকে-মহামায়া, গৌড়ী, চামুণ্ডা, অসুর বিনাশী
বিভিন্ন রূপে তারা ডাকে উমাকে ভালোবাসে।।
যা সহজে পাওয়া যায় না অগম্যা, সেই হলো দুর্গা,
হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী মতে দশভূজা দেবী দুর্গা।।
মহিষাসুর স্বর্গ থেকে দেবতাদের বিতাড়িত করে স্বর্গ করে অধিকার,
ব্রহ্মাবিষ্ণু, দেবতাদের এই করুণ কাঁথা শুনে-দেবতাদের শরীর থেকে বিভিন্ন উপাদান নিয়ে সৃষ্টি করেন দেবী দুর্গার।।
এরপর দুর্গা দেবীকে-কেহ দান করেন বস্ত্র, পোশাক, কেহ কেহ দান করেন বিবিধ অস্ত্র,
বিভিন্ন দেবতার তেজ থেকে দেবী দুর্গাকে ভিন্নতা দান করে তৈরী করেন অসুর বধের এক মহা মারণাস্ত্র।।
মহিষাসুর কোটি রথ, হাতি, অশ্ব, সৈন্য নিয়ে দেবী দুর্গার সাথে নামেন রণাঙ্গনে,
দেবী দুর্গা অষ্টভুজ উগ্র চন্ডী রূপে, ভদ্রাকালী সেজে, আবার দশভুজা রূপে অসুরকে হত্যা করেন যুদ্ধের ময়দানে।।
অদ্রিজা, অসুর নাশিনী, সনাতনী, হৈমন্তী, শঙ্করী, শর্বাণী, কাত্যায়নী, জগজ্জননী, বিজয়া, শিবানী, সুরেশ্বরী, হিমালয় নন্দিনী, শারদা সহ অসংখ্য রূপক নাম আছে উমার,
সনাতন ধর্মালম্বীরা উমাকে পেয়ে বছর ঘুরে আনন্দে মাতে পূজার্চনা করে, সাথে চলে
নানা রকম খাবারের সমাহার।।
ষষ্ঠীতে বোধন, সপ্তমী পার করে, অষ্টমীতে কুমারী পূজা ও সন্ধি পূজা করে পাড়,
নবমীর সন্ধ্যায় আরতির পর সিদ্ধিদাত্রী পূজা হলে-ভক্তদের হৃদয় হতে থাকে ভার।।
নবমীতে দেবী পদ্মফুলের আসনে করেন আরোহণ,
দেবী শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম এগুলো করেন ধারন।।
আসে বিজয় দশমী-বিষাদের সূর উঠে ঘরে ঘরে,
বিজয়া দশমীতে ভক্তদের অশ্রু ঝরে দেবীকে বিদায়
জানায়-দেবী দুর্গাও কৈলাশের পথ ধরে।।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান,
বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM