কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
তাঁর এক কথায় যেনো ঝড় উঠে গেলো— বিএনপির সিনিয়র নেতা ও আইনজীবী এডভোকেট ফজলুর রহমানের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছে ক্ষোভের আগুন।
‘শহীদের অসম্মান’ এবং ‘আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃতি’র অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ছাত্রনেতারা উচ্চারণ করলেন প্রতিরোধের আহ্বান— “আমরা চুপ থাকবো না।”
গত বুধবার (১৩ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরির দ্বিতীয় তলায় এক ব্যতিক্রমধর্মী সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বিপ্লবী ছাত্রজনতার সাবেক নেতৃবৃন্দ।
কথায় কথায় নয়, এবার তারা এসেছেন দলীয় ছায়াতেও আগুন ধরাতে।
“আওয়ামী ফ্যাসিবাদের প্রতিধ্বনি”
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ফজলুর রহমানের বক্তব্য ছিল “কুরুচিপূর্ণ, রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আন্দোলনের শহীদদের প্রতি এক ধরনের নৈরাজ্যকর তাচ্ছিল্য।”
তারা সরাসরি অভিযোগ করেন, “তিনি আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ভাষা ধার করে মিথ্যা মামলা ও দমননীতির হুমকি দিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের গলায় এখনো শাসকের শিকল পরাতে চাচ্ছেন।”
বিএনপির ভেতরেই চলছে নীরব ষড়যন্ত্র?
বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বিএনপির অভ্যন্তরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি "মুজিববাদী ধারা", যারা দলটির মূল আন্দোলনকেন্দ্রিক চরিত্রকে ভাঙচুর করে ক্ষমতার সুবিধাবাদে আশ্রয় নিচ্ছে।
তারা বলেন, “এই গোষ্ঠী আন্দোলনের শহীদদের রক্তকে পুঁজি করে সস্তা আপসের পথে হাঁটতে চায়।”
“অব্যাহতি দিন”— শৃঙ্খলাভঙ্গের ডাক
ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে তাকে বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
“যে ব্যক্তি শহীদের আত্মত্যাগের অবমাননা করে, তার জন্য দলে জায়গা থাকতে পারে না,” বলেন সংগঠনের সাবেক আহ্বায়ক ইকরাম হোসেন।
রাস্তা নামছে ইতিহাসের প্রহরীরা
বক্তারা ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে বৃহৎ কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তারা বলেন, “এই আন্দোলন কেবল শহীদদের স্মৃতির প্রতিরক্ষা নয়, বরং নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। যে লড়াইয়ে কেউ ছাড় পাবে না।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. ফয়সাল প্রিন্স, রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া, মানস সরকার উৎস, ইয়াজ ইবনে জসিম, শামসুর রহমান, তামিম ইকবাল, আরিফুল ইসলাম রাফি, মিয়াদ, দেলোয়ার নেওয়াজ, নুহা, রওজা, মাইসা প্রমুখ।
রাজনীতি যখন ইতিহাসের রক্তে হাত দেয়, তখন ছাত্রদের স্মৃতি হয় বারুদের মতো। কিশোরগঞ্জে যেটি দেখা গেল, তা নিছক প্রতিবাদ নয়— এটা শহীদের পক্ষ থেকে এক 'জবাব'।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM