ইমদাদুল হক রানাঃ
গাজীপুরে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ–এর প্রতিনিধি সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে রাজবাড়ীর সাংবাদিক সমাজ। শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে বক্তারা হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর আইন প্রণয়নেরও আহ্বান জানানো হয়। কর্মসূচি থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, দুই মাসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন না হলে সারাদেশে একযোগে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র শীল চন্দন, রাজবাড়ী জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ পেশাদার সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসজাদ হোসেন আজু, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কবির হোসেন, পাংশার সাংবাদিক মাসুদ রেজা শিশির, রতন মাহমুদ, শামীম হোসেন, এসকে পাল সমীর, বালিয়াকান্দি রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সনজিৎ কুমার দাস, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও ডিবিসি নিউজের রাজবাড়ী প্রতিনিধি দেবাশীষ বিশ্বাস, পাংশা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মিঠুন গোস্বামী, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি সুমন বিশ্বাস, গ্লোবাল টিভির প্রতিনিধি খন্দকার রবিউল ইসলাম, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম, আমার দেশের গোয়ালন্দ প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম হালিম, জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আনোয়ারুল ইসলাম টুটুল, বিজয় টিভির প্রতিনিধি শেখ আলী আল মামুন, সৈকত শতদলসহ পাংশা, বালিয়াকান্দি, কালুখালী ও গোয়ালন্দ উপজেলার অসংখ্য সাংবাদিক।
বক্তারা বলেন,“বিস্মিত হৃদয়, ক্ষুব্ধ আত্মা ও শোকে আচ্ছন্ন কণ্ঠে আজ আমরা একত্রিত হয়েছি আমাদের প্রিয় সহযোদ্ধা, সত্যের সৈনিক সাংবাদিক তুহিনকে স্মরণ করতে। তিনি কলমকে অস্ত্র বানিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই কলম আজ রক্তে ভিজে গেছে খুনিদের হাতে। তুহিনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে—এ শুধু একজন সাংবাদিককে হত্যা নয়, এটি সত্য, ন্যায় ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বর্বরোচিত আঘাত।”
বক্তারা আরও বলেন, আজ একজন সাংবাদিককে হত্যা করা হলো, কাল কি আমরা নিরাপদ থাকব? যেখানে দিবালোকে সাংবাদিক খুন হয়, সেখানে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থ বলে প্রমাণিত হয়। এই হত্যার বিচার যেন দীর্ঘসূত্রতায় হারিয়ে না যায়, নইলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলনে নামবে।
তাদের দাবি—
সাংবাদিক তুহিন হত্যায় জড়িত সব খুনি ও ষড়যন্ত্রকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর আইন ও সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, সারাদেশে সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও হামলার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। অপরাধীরা শাস্তি না পাওয়ায় এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। দুই মাসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন না হলে সারাদেশে একযোগে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শেষে তারা আরও বলেন,
“তুহিনের রক্ত বৃথা যাবে না। তিনি সত্যের আলোকবর্তিকা হয়ে আমাদের পথ দেখাবেন। আমরা ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।”
মানববন্ধন শেষে প্রেসক্লাব চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে রেলগেইট প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM