কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পূর্ব তারাপাশা যেন এক ঘোর অন্ধকারে ঢেকে গেছে। টানা সাতদিন ধরে রোড লাইট বন্ধ থাকার কারণে সন্ধ্যা নামলেই পুরো এলাকা পরিণত হচ্ছে আলোহীন এক জনপদে। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে চরমভাবে।
রাস্তা-ঘাটে কোনো বৈদ্যুতিক আলো না থাকায় অন্ধকারের সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ— এই কয়দিনে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। কিছু কিছু স্থানে চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। অথচ স্থানীয় প্রশাসন বা পৌর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
❝ অন্ধকারে ঘর থেকে বের হওয়াই দুঃসাহসের কাজ ❞
এলাকাবাসী মোঃ নাদিম মিয়া বলেন,
> “প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই আমাদের পুরো এলাকা ঢেকে যায় গভীর অন্ধকারে। নারীরা বাইরে বের হতে ভয় পান, শিক্ষার্থীরা টিউশন বা কোচিং থেকে ফিরতে পারছে না ঠিকভাবে। আমরা বারবার পৌরসভায় জানিয়েছি, কিন্তু তারা যেন উদাসীন।”
স্থানীয়দের মতে, শুধুমাত্র একটি রোড লাইট বন্ধ থাকাই নয়, প্রশাসনের এই অবহেলা এক ধরনের ‘প্রশাসনিক ব্যর্থতা’রও পরিচয় বহন করে।
আলো না থাকলে নিরাপত্তা কোথায়?
পূর্ব তারাপাশা এলাকার অলিগলি, সংযোগ সড়ক এমনকি গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতেও কোনো আলোর ব্যবস্থা নেই। ফলে অপরাধ সংঘটনের সম্ভাবনা যেমন বাড়ছে, তেমনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।
কর্তৃপক্ষের নীরবতা রহস্যজনক
একাধিকবার অভিযোগ জানানোর পরও কেন পৌর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এলাকাবাসীর মধ্যে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, “যেন কেউ দায় নিতে চায় না। সবাই দায় এড়িয়ে যাচ্ছে।”
এই বিষয়ে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান
সচেতন নাগরিক সমাজ বলছে,
> “রোড লাইট এক দিনের জন্য বন্ধ থাকলেও সমস্যার সৃষ্টি হয়। সেখানে সাতদিন বন্ধ থাকলে তো গোটা এলাকার নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।”
রোড লাইটহীন পূর্ব তারাপাশা যেন রাত নামলেই এক অদৃশ্য আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়। এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন— “আলো কি আর ফিরবে?” সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব এখন প্রশাসনের।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান,
বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM