কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম তারাপাশায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ে চরম প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও কর্তৃত্বের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক আবু বকর ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে। জেলা শিক্ষা অফিসের স্পষ্ট নির্দেশ উপেক্ষা করে তিনি পাঁচজন নিয়মিত শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আদেশ থাকা সত্ত্বেও বাধা
জানা গেছে, জেলা শিক্ষা অফিস লিখিতভাবে ওই পাঁচজন শিক্ষককে পুনরায় দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিলেও প্রধান শিক্ষক তা মানতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি তাদের বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়ার জন্য গেট প্রহরীদের মৌখিক নির্দেশও দেন। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, তাদেরকে নিয়মিত স্কুলে এসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হলেও শ্রেণিকক্ষে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
একজন শিক্ষক বলেন,
“আমরা সরকারি নির্দেশ অনুসারে ফিরে এসেছি। তবুও পাঠদানে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। এটি স্পষ্টভাবে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি অবজ্ঞা।”
অন্য একজন শিক্ষকের ভাষ্য,
“প্রধান শিক্ষক তার ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে আমাদের হয়রানি করছেন। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।”
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগ
প্রধান শিক্ষক আবু বকর ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে এর আগেও স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে পূর্বে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও অজানা কারণে তিনি পুনরায় দায়িত্বে ফেরত আসেন। স্থানীয়দের মতে, তিনি ফিরে এসেই বিদ্যালয়ের পরিবেশকে আরও বিশৃঙ্খল করে তুলেছেন।
অভিভাবকদের ক্ষোভ ও উদ্বেগ
বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, স্কুলে যোগ্য শিক্ষকদের পাঠদান থেকে বিরত রাখায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে।
একজন অভিভাবক বলেন,
“আমাদের সন্তানেরা ঠিকমতো পড়ালেখা পাচ্ছে না। এমন চলতে থাকলে তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে।”
আরেকজন বলেন,
“প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছামতো প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দরকার।”
জেলা শিক্ষা অফিসের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
“বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। প্রধান শিক্ষক কেন নির্দেশনা অমান্য করছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও ন্যায্যতা না থাকলে, তার প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের চলমান অস্থিরতা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করে। সংশ্লিষ্ট সকলের প্রত্যাশা, কর্তৃপক্ষ সঠিক তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করবে।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM